বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং

শরীয়তপুরে পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের করুণ মৃত্যু

শরীয়তপুরে পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের করুণ মৃত্যু
শরীয়তপুরে পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের করুণ মৃত্যু

শরীয়তপুরে খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে তামজীদ (৬) ও তাহসিন (৫) নামে দুই ভাইয়ের করুন মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের বাইশ রশি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। তামজীদ ওই গ্রামের আবুল বাশার বেপারীর ছেলে ও তাহসিন করিম বেপারীর ছেলে। বাশার বেপারী ও করিম বেপারী আপন ভাই। নিহত শিশু তামজীদ ও তাহসিন আপন চাচতো ভাই। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দুই শিশুর মৃত্যুর খবর শুনে তাদের বাড়িতে ভীড় করছেন প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনরা।
শিশুর চাচাতো দাদা ইউনুস বেপারী ও স্থানীয়রা জানান, শিশু তাহসিনের মা তানিয়া বেগম স্থানীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আর বাবা করিম বেপারী বর্তমানে তাবলীগ জামায়াতে সফরে আছেন। বাশার বেপারী কাজের সুবাদে বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। তাহসিনকে তার দাদা দাদির কাছে রেখে প্রতিদিনের মতো স্কুলে ডিউটিতে ছিলেন মা তানিয়া বেগম। তামজীদের মা আয়শা বেগম দুপুরে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই সময় দুই ভাই তামজীদ ও তাহসিন খেলতে ছিলেন। খেলতে খেলতে কখন তারা পুকুর পাড়ে চলে যায় কেউ টের পায়নি। এরই মধ্যে তামজীদের মা আয়শা বেগম ছেলেদের না দেখে খোঁজ করতে থাকেন। বাড়ি থেকে একশ ফুট দূরত্বে ফসলি জমিতে ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে মাটি কেটে তৈরী করা হয়েছে পুকুর। সেখানে এলাকার অনেকেই গোসলসহ অন্যান্য কাজকর্ম করে থাকেন। সেখানে খুঁজতে গেলে প্রতিবেশী ছোট্ট এক কন্যা শিশু জানায় তামজীদ ও তাহসিন পুকুরে নেমেছে। এ কথা শুনে জাহাঙ্গীর নামে প্রতিবেশী এক যুবক পুকুরে ঝাপিয়ে পড়ে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে তামজীদকে উদ্ধার করে। এর পরেই তাহসিনকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে দুজনই শেষ নিশ^াস ত্যাগ করেছেন। তাদেরকে দ্রুত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার আকষ্মিকতায় হতবাক হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন নিহতের দাদা আব্দুল কুদ্দুস বেপারী, মা তানিয়া ও আয়শা। স্বজনদের আহাজারীতে ভারি হয়ে যায় বাতাস। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে বাবা বাশার বেপারী ও চিল্লা থেকে করিম বেপারী রওয়ানা হয়েছেন। বাড়ির পাশেই দাফন করা হবে দুই ভাইকে। এ জন্য কবর খোড়া ও বাঁশ কাটার কাজে সহযোগিতা করছেন প্রতিবেশীরা।