সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুর কলেজছাত্রকে সেপটিক ট্যাংকে নামিয়ে হত্যার অভিযোগ

শরীয়তপুর কলেজছাত্রকে সেপটিক ট্যাংকে নামিয়ে হত্যার অভিযোগ

শরীয়তপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের মেধাবি ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী তারিকুজ্জামান তারিফ খাঁনকে নবনির্মিত সেপটিক ট্যাংকে নামিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি উঠেছে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের পাঁচক গ্রামের হাইবক্স গোরাপির ছেলে সালাউদ্দিন গোরাপির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিহতর পরিবার, শরীয়তপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী, ভোজেশ্বর ইউনিয়নবাসী ও শিক্ষকরা শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্তর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসক কার্যায়ের সামনে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় নিহত তারিফ খাঁনের বাবা লিটন খান, চাচা স্বপন খান, কবির খান, ফুফু কিরণ মালা, শরীয়তপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল জমাদ্দার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।


মানববন্ধনে নিহত তারিফ খাঁনের বাবা লিটন খানসহ বক্তারা বলেন, সালাউদ্দিন গোরাপি বাসা থেকে ডেকে নিয়ে জোড়পূর্বক বিষাক্ত গ্যাসযুক্ত সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে নামিয়ে হত্যা করেছে তারিফ খানকে । তাই সালাউদ্দিন গোরাপিকে আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি জানায় তারা।
উল্লেখ্য, নড়িয়া উপজেলার পাঁচক গ্রামের সালাউদ্দিন গোরাপি তার বসত ঘরের পেছনে একটি সেপটিক ট্যাংকি নির্মাণ করেছেন। দুই মাস আগে নির্মান করা ওই সেফটি ট্যাংকির ছাদ ঢালাইয়ের কাঠ খোলার জন্য নির্মাণ শ্রমিক শাহাদাৎ কে নিয়ে গত শুক্রবার সাড়ে ১২টার দিকে সালাউদ্দিন গোরাপি সেখানে যান। সেপটিক ট্যাংকির ঢাকনা খোলার পর নীচে নামলে শাহাদৎ অচেতন হয়ে পরেন। তার কোন সারাশব্দ না পেয়ে সালাউদ্দিন তাদের প্রতিবেশি তরিফ খানকে ওই ট্যাংকিতে নামান। নীচে নেমে সেও অচেতন হয়ে পরেন। তাদের উদ্ধার না করে সালাউদ্দিন আরো তিন ব্যাক্তিকে সেফটি ট্যাংকিতে নামায়। খবর পেয়ে ৪০ মিনিট পর তরিকুল ইসলামের বাবা লিটন খান আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসক তারিফ খান ও শাহাদাৎ গোরাপিকে মৃত ঘোষনা করেন। আর গুরুতর আহত অবস্থায় আজিজুল বাঘা (৩৫), রুবেল গোরাপি (৩৫) ও অপু গোরাপি (২৫) সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের সবার বাড়ি পাঁচক গ্রামে।

নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। অপরাধীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


error: Content is protected !!