শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২০ ইং, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২০ ইং

শরীয়তপুরে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে মায়ের মানববন্ধন

শরীয়তপুরে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে মায়ের মানববন্ধন

পদ্মা বেষ্টিত চড়াঞ্চল শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের জবরদখল গ্রামের গৃহবধূ আকলিমা বেগমের (৩০) হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছেন মা সাহিদা বেগম। তার দাবি একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিন সরদারের ছেলে আল-আমিন সরদার (৩৫) আকলিমাকে হত্যা করেছে।
এদিকে এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছেন কাঁচিকাটা ইউনিয়নবাসী।
এ দাবিতে রবিবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল ৪ টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হয়। এতে নিহতের মা সাহিদা বেগম, বাবা শরীফ সরদার, ভাই সাইফুল ইসলামসহ ইউনিয়নবাসী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন মা সাহিদা বেগম।
জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের জবরদখল গ্রামে ১৩ বছর আগে গিয়াস উদ্দিন সরদারের ছেলে আল-আমিন সরদারের সঙ্গে একই গ্রামের শরীফ সরদারের মেয়ে আকলিমা বেগম প্রেম করে বিয়ে করেন। তাদের বৈবাহিক জীবনে রিয়া মনি (৬) নামে এক মেয়ে ও রিয়াজ (১২), মিরাজ (৮) নামে দুইটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য আকলিমাকে নির্যাতন করতো আল-আমিন। একদিন আল-আমিন কলস দিয়ে আঘাত করে আকলিমার কানের পদ্দাও ফাটিয়ে দেন। আকলিমা নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাবার বাড়ি থেকে ধাপে ধাপে পাঁচ লাখ টাকাও দেয় আল-আমিনের পরিবারকে। আবার দেড় লাখ টাকা যৌতুকের জন্য (৮ ডিসেম্বর) রবিবার রাতে আবার নির্যাতন করে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেচিঁয়ে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখে। (৯ ডিসেম্বর) সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে সখিপুর থানা পুলিশ আকলিমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তর জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে স্বামী আল-আমিনকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।
কান্নাজড়িত কন্ঠে নিহত আকলিমার মা বলেন, যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে হত্যা করেছে আল-আমিন। আমার মেয়ের যে ময়নাতদন্ত হয়েছে, তা সঠিক হয়নি। আমি পুনরায় ময়নাতদন্ত চাই। আমার মেয়ের হত্যাকারির ফাঁসি চাই।
ভাই সাইফুল সরদার বলেন, আল-আমিন যখন আমার বোনকে নির্যাতন করতো, তখন ঘরের মধ্যে বিকট শব্দ করে সাইন্ডবক্স বাঁজাতো। যাতে করে প্রতিবেশিরা নির্যাতনের শব্দ না পায়। আমার বোনের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। আল-আমিনের ফাঁসি চাই।
সখিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক বলেন, আকলিমার ময়নাতদন্তে, তিনি আত্মহত্যা করেছে। তার স্বামী আল-আমিন জেলহাজতে আছে। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।