বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল, ২০২০ ইং, ১৯শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
আজ বৃহস্পতিবার | ২রা এপ্রিল, ২০২০ ইং

ডামুড্যা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে শিক্ষকরা জিম্মি

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২০ | ২:০১ পূর্বাহ্ণ | 87Views

ডামুড্যা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে শিক্ষকরা জিম্মি

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় এক সহকারী থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের (এটিইও) কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষকরা। রিতিমত বানিজ্য শুরু করেছেন ওই কর্মকর্তা। স্লীপের মালামাল ক্রয়, ছাত্রছাত্রীদের ওয়াডে ওয়ান ওয়াডের ডাইরীসহ সকল কেনাকাটায় নিজেই সরবরাহকারী বনে গেছেন। তিনি উপজেলার ৩/৪ জন প্রধান শিক্ষককে সাথে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ক্রয় সিন্ডিকেট গড়ে তোলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। ওই শিক্ষা কর্মকর্তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

সরেজমিনে ঘুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৭ সনে শরীফ মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ডামুড্যা উপজেলায়। এরপর থেকেই সুযোগ বুঝে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের স্লীপের বরাদ্দ, প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ এছাড়া উর্দ্ধতণ কর্তৃপক্ষে নির্দেশে বিভিন্ন কেনাটাকাটার জন্য তার পছন্দের কয়েকজন শিক্ষক নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এ সিন্ডিকেট উপজেলা সকল বিদ্যালয়ের কেনাকাটা করে মালামল সরবরাহ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সিন্ডিকেটের ভয়ে কোন শিক্ষক কথা বলতেও সাহস পাচ্ছেনা। সহকারী শিক্ষা অফিসার শরীফ মোহাম্মদ এমদাদের কারণে ওই উপজেলাতে কোন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গিয়ে টিকতে পারে না। তার সিন্ডিকেটর শিক্ষকদের মাধ্যমে তাদেরকে বদলী হতে বাধ্য করেন তিনি। তাই দীর্ঘদিন যাবত ওই উপজেলাতে তিনি একাই সহকারী শিক্ষা অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বেশ কয়েক জন বদলী হলেও তিনি বীরদর্পে তার অপর্কম চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জনান, গত মাসে উপজেলা উপজেলার ৬৯টি বিদ্যালয়ের জন্য মুজিব কর্নার ব্যানার সরবরাহ করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষা অফিসার শরীফ মোহাম্মদ এমদাদ তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শরীয়তপুরের একটি ডিজিটাল হাউজ থেকে মুজিব কর্নার ব্যনার প্রিন্ট করে সরবরাহ করেছেন। ১৫/১৬ টাকায় ব্যানার প্রিন্ট করা হলেও আমাদের দিতে হয়েছে ১৮টাকা করে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের কাছাকাছি সড়কে বিদ্যালয় নির্দেশক লাগানো নির্দেশ দিয়েছে উর্দ্ধতণ কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের এসব নির্দেশক ওই সিন্ডিকেট সরবরাহ করবে- বিনিময়ে প্রতি বিদ্যালয় থেকে ২ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। যার বাজার মুল্য ১ হাজার থেকে ১ হাজার দুই শত টাকার বেশী হবে না। এভাবে প্রতিটি কেনাকাটার ওই সিন্ডিকেটকে ব্যবসা না দিয়ে উপায় নেই। আমরা এখন পরিস্থিতির স্বীকার। এছাড়াও বদলী বানিজ্য, শোকজ বানিজ্য, বিভিন্ন ছুটি অনুমোদন সহ টাকা ছাড়া ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে কোন সেবা পাওয়া যায় না। আমরা প্রতিবাদ করতে পারি না। কয়েজন দালাল শিক্ষককে হাত করে দিনেরপর দিন এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন। আমাদের খবর নেয়ার কেউ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। আমিতো ব্যবসা করি না। আমার কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নাই। আমি শুধু মনিটর করি। কাজ গুলো বাস্তবায়ন করতে সহায়তা করি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এটিও’র নেতৃত্বে ক্রয় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে- এমন অভিযোগ এখনো কেউ করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।


-Advertisement-
সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেইসবুক পাতা

-Advertisement-
-Advertisement-
error: Content is protected !!