সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং

ডামুড্যার শত-বয়সি খাতুন নেছা দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান

ডামুড্যার শত-বয়সি খাতুন নেছা দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান

স্বামী মারা যাওয়ার শোক সইতে না পেরে একপ্রকার পাগলের মতো হয়ে যান খাতুন নেছা। একদিন হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। ১৪ বছর পর পাওয়া যায় তাকে। তারপর ওঠেন মেয়ের কাছে। মেয়ের সংসারে এমনিতেই অভাব-অনটন। তারপরও গর্ভধারিণী মাকে বাঁচাতে ভিক্ষা করে এনে খাওয়ান। আর যেদিন কিছু না জোটে, সেদিন থাকেন অনাহারে। একমাত্র ছেলেও মাকে ছেড়ে চলে যান বিদেশে। বার্ধক্যের কারণে এখন হাঁটতে পারেন না খাতুন নেছা। জায়গা হয়েছে একটি ঝুপড়ি ঘরে। বৃষ্টি এলে ঘরে পানি ঢুকে হয়ে যায় স্যাঁতসেঁতে। সরকারি কোনো সহযোগিতা পান না।

ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খাতুন নেছার বয়স ১০০ ছুঁইছুঁই। গনমাধ্যমে মাধ্যমে এমন সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান এর নির্দেশে ডামুড্যা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফজলে এলাহি ছুটে যান মানবিক উপহার নগদ টাকা এবং খাদ্য সামগ্রী নিয়ে। খাতুন নেছার সমস্ত দায়িত্ব জেলা প্রশাসক নিবেন বলে জানান এসিল্যান্ট।

এসময় ডামুড্যা সহকারী কমিশনার ভূমি ফজলে এলাহি বলেন খাতুন নেছার বিষয়টি জানার সাথে সাথে আমাদের মানবিক জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাকে নিদের্শ দেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এবং তার সমস্ত দায়িত্ব নেয় জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান স্যার।আমরা জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসানের এর নির্দেশনায় আজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার নগদ অর্থ ও মানবিক সহায়তা তুলেন দেন, এসময় উপস্থিত ছিলেন ডামুড্যা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ ওবায়দুর রহমান ও পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদ পারভেজ লিটন হাওলাদার। ডামুড্যা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ ওবায়দুর রহমান বলেন, ভোটার আইডি কার্ড না থাকার কারনে বয়স্ক ও বিধবা বার্তা এমএস শীর্ট থেকে খাতুন নেছার নাম বাদ পরে।আমি ডিডি মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করে দ্রুত খাতুননেসার জন্য বয়স্ক ও বিধবা বার্তার ব্যবস্থা করবো। পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদ পারভেজ লিটন বলেন পূর্বে জন্ম সনদ দিয়ে বয়স্ক বার্তা ও বিধবা বার্তা পেয়েছি কিন্তু বর্তমানে ভোটার আইডি কার্ড না থাকার কারনে খাতুননেছার নাম বাদ পরে, আমি সমাজসেবা অফিসার ও নির্বাচন কমিশন এর সাথে কথা বলে উনার ভোটার আইডি কার্ড ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো এবং আমার পরিষদের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছি এবং ভবিষ্যতে দিবো।পরে খাতুননেছা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী পেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক এর জন্য দোয়া করেন।