সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং

মুক্তিযোদ্ধাকে নির্যাতন করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ

মুক্তিযোদ্ধাকে নির্যাতন করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে ৮নং ওয়ার্ড এড়িকাঠি গ্রামের মৃতঃ কালাই বেপারীর পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিল বেপারী কে স্থানীয় ওয়াসিম মাদবর ও মাসুদ মাদবর নির্যাতন করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।

এই ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিল বেপারী বলেন, গত বুধবার (২৬ মে) এশারের নামাজ শেষে সেলিম ফকির এর চায়ের দোকানে চা খেতে গেলে আনুমানিক রাত সাড়ে ৮ টার সময় ওয়াসিম মাদবর ও মাসুদ মাদবর আমাকে মেশিন বন্ধ করছি কেন এই বলে আমার উপরে ঝাপিয়ে পরে। এরপর ওয়াসিম মাদবর আমাকে জুতা দিয়ে বারবার আঘাত করে এবং মাসুদ মাদবর আমাকে লাঠি দিয়ে পিটাতে শুরু করে। তারপর আমি অচেতন হয়ে যাই, আমার জ্ঞান ফিরলে আমি দেখতে পাই আমি হাসপাতালে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিল বেপারী বলেন, আমি মাছ চাষ করতে আমার ফসলি জমি না দেয়ার কারনে ওরা যেভাবে আমাকে জুতা ও লাঠি দিয়ে দিয়ে পিটিয়েছে এবং বলেছে আমার মতো মুক্তিযোদ্ধা ওদের পকেটে থাকে, আরো বলেছে ওরা নাকি এই এলাকায় বাঘ। আমি আমাদের গড়া বাংলাদেশের সরকারের কাছে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং দেশ বাসীর কাছে এর বিচার চাই। তিনি আরো বলেন, আমাকে মেরে ফেললেও ভালো হতো, কিন্তু আমাকে জুতা দিয়ে পিটিয়েছে এই লজ্জা আমাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে।

আহত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উজ্জল বেপারি বলেন, আমি যখন শুনতে পাই তখন এসে আমার বাবাকে এলাকা বাসীর সাহায্য নিয়ে বেটারি চালিত অটো দিয়ে ডামুড্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি, কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ভর্তি করেন। তার পরে ডামুড্যা থানায় মৌখিক অভিযোগ করলে ডিউটি অফিসার এলাকায় যান এবং আসামীদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাননি। আমি পরের দিন ডামুড্যা থানায় লিখিত অভিযোগ করি, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর নিরঞ্জন রায় তদন্ত করতে গেলে ঘটনার সত্যতা পায়। তদন্ত কর্মকর্তা বাদী মোঃ উজ্জল বেপারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উল্লেখিত আসামী ওয়াসিম মাদবর(৩০), মাসুদ মাদবর(৪০), পিতা মৃতঃ আঃ রাজ্জাক মাদবর ও অজ্ঞাত আরো তিন চার জনকে আসামী করে মামলা করেন। যার মামলা নং ১২/২০২১ ইং।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত প্রবীণ কুমার চক্রবর্তী রুদ্রবার্তা কে বলেন, আমারা আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার এই পর্যন্ত একের অধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছেন। খুব তাড়াতাড়ি তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।