বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে স্ত্রী হাতে স্বামী খুন!

শরীয়তপুরে স্ত্রী হাতে স্বামী খুন!

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় সম্পত্তির জন্য স্বামীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্ত্রী,শশুর ও শ্যালক এ-র বিরুদ্ধে।

স্থানীয় ও পারিবারিক ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তির জন্য স্বামীকে শ্বাশরুদ্ধ করে হত্যা করে স্ত্রী শ্যালক ও শশুর।

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের পশ্চিম ছাতিয়ানী গ্রামের মৃত নওয়াব আলী সরদারে ছেলে হাইম্যাক্রা ইউনানীর ল্যাবরেটরিজ লি: এর মালিক এনামুল হক সবুজের সাথে একই গ্রামের জুলাস সরদারের মেয়ে শামীমা বেগমের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী এনামুল হক সবুজকে শশুর জুলহাস সরদার ও তার মেয়ে শামীমা বেগম ,ছেলে সাইফুল ইসলাম অপু,শরিফুল ইসলাম। টাকা পয়সা ও শামীমাকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বানানোর জন্য জন্য চাপ দিতে থাকে এবং মাঝে মাঝে শারীরিক নির্যাতন করে। এনামুল হক সবুজ স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজনের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শামীমাকে চেয়ারম্যান করেন। এবং স্ত্রীর সাথে সাংসারিক জীবন যাপন ভালো না হওয়ায় মুনা নামে একটি মেয়েকে বিয়ে করেন সবুজ। এদিকে স্বামীর সবুজের দ্বিতীয় বিয়ের কথা শুনে স্ত্রী শামীমা বেগম, শশুর জুলহাস সরদার চাচা শশুর মোঃ দেলোয়ার সরদার,মামা শশুর আল মাদানী,শাশুড়ি কহিনুর বেগম,শামীমার ভাই সাইফুল ইসলাম অপু, ও শরিফুল ইসলাম শরীরিক তাকে মানসিক যন্ত্রণা দিতেন।

এঘটনায় পর এনামুল হক সবুজের স্ত্রী শামীমা বেগম বাবা জুলহাস সরদারের বাড়ি চলে আসে। ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে সবুজকে মিমাংশার কথা বলে স্ত্রী ও শশুর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাড়ি এনে ঈদের দিন দিবাগত রাতে দ্বিতীয় স্ত্রী মুনাকে তালাক দিয়ে তার মালিকানা ধীন হাইম্যাক্রা ইউনানীর ল্যাবরেটরিজ লি: ও সকল সম্পত্তি শামীমা তা তার বাবা জুলহাস সরদারের নামে লিখে দিতে বলে।

সবুজ সম্পতি লিখে দিতে রাজি না হওয়ার কারনে রাতে নির্যাতন ও শ্বাশরুদ্ধ করে হত্যা করে বলে জানান সবুজের মা মোসা: মমতাজ বেগম তার ছোট ভাই মোঃ সোহাগ,বোন তাসলিমা বেগম,দ্বিতীয় স্ত্রী মুনা সবুজ। এব্যাপরে মৃত সবুজের বোন তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে স্ত্রী ও শশুর সহ ৭ জনকে আসামী করে শরীয়তপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত,ডামুড্যা একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায়টি ওসি ডামুড্যাকে এফ,আই,আর হিসাবে গ্রহন করলেও কোন আসামীকে আটক করেন নাই ডামুড্যা থানা পুলিশ। অন্যনদিকে সবুজের মৃত্যুর সাথে সাথে তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান দক্ষল করেন জুলহান সরদার ও তার ছেলে সাইফুল ইসলাম অপু। এ ঘটনায় জুলাস সরদার বলেন, আমার ছেলে সাইফুল ইসলাম অপু লেখা পরা জানে তাই প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য অপুকে ম্যানেজিং ডিরেক্টর করছি যেখানে সবুজের বাচ্চা ছোট তাই আমদের দেখতে হবে দক্ষলে কিছু নাই। অন্যদিকে ডামুড্যা থানা অফিসার ইনর্চাস (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন,ডামুড্যা থানায় একটি লিখিত অভিযোক করছে কিন্ত লাশ দাফন কাফন হয়ে গেলে আদলতের আদেশ ছাড়া তো লাশ কবর হতে উত্তোলন পারিনা। আদালতের আদেশ যখন পেয়েছি এখন আমরা লাশ কবর হইতে উত্তোলন করে পোষ্টমর্টেম করবো।

অতঃপর ডামুড্যায় ময়নাতদন্তের জন্য দাফনের ৩৬ দিন পর কবর থেকে এনামুল হক সবুজের মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুর্তজা আল মুঈদের উপস্থিতিতে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের হাজী শরীয়তুল্লাহ কারিমীয়া মাদরাসা ও এতিমখানা কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। এর আগে গত ১ আগস্ট রাতে তার মৃত্যু হয়।

নিহত মো. এনামুল হক সবুজে এই গ্রামের মৃত নওয়াব আলী সরদারের ছেলে এবং সে হাইম্যাক্স ইউনানী ল্যাবরেটরিজ লি. এর মালিক ছিলেন। মামলার সূত্রে যানা যায়, এনামুল হক সবুজের বড় বোন তাছলিমা বেগম গত ১৪ আগস্ট শরীয়তপুর কোর্টে সাতজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যে তার ভাইকে তার স্ত্রী শামীমা বেগম ও তারা পরিবার পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে। এছাড়া সবুজের ওপর বিভিন্ন সময় অত্যাচার করতে।

এনামুল হক সবুজ এর বড় বোন তাছলিমা বেগম বলেন, আমার ভাই অনেক ভালো মানুষ ছিল। দ্বিতীয় বিয়ের কারণে আমার ভাইকে বিভিন্ন সময় তার বড় বউ শামীমা বেগম মানুষিকভাবে অত্যাচার করত। যা আমি আর আমার মা বহুবার মিমাংসা করেছি। গত কোরবানি ঈদের সময় আমার ভাই দেশে আসেন ঈদ ও কোরবানি দেয়ার জন্য। ঈদের পরদিন সকালে হঠাৎ জানতে পারি সবুজ মারা গেছে। সারাদিন আমাদের ওর কাছে যেতে দেয়নি। গোসলের পর জানাজার আগে আমাদের ওখানে এনেছিল। তখন ওর গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখি। তখন আমরা পোষ্টমর্টেমের জন্য বলে। কিন্তু ওদের চাপে তা করতে পারিনি। এরপর আদালতের নির্দেশে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

এ ব্যাপারে এনামুল হক সবুজের দ্বিতীয় স্ত্রী মুনা সবুজকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান,আমার স্বামী এনামুল হক সবুজের টাকায় ছাতিয়ানি গ্রামের সকল গরিবদের মাঝে দান করতেন, যে সম্পদের জন্য আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে সে সম্পদের জন্যই ওদের উপর আল্লাহ গজব নাজিল হবে,

স্বজনের দাবী তার মৃত্যু রহস্যজনক তার বোন তাসলিমা বেগম শরীয়তপুর কোটে ৭ জন আসামী করে একটি হত্যা মামলা করেন। একাধিক সূত্র থেকে জানা যায় পুলিশ এ ব্যাপারে তাদের তদন্ত কাজ অব্যাহত রেখেছে।এনামুল হক সবুজ একটি প্রতিষ্ঠান কর্ণধার তার প্রতিষ্ঠানের নাম হাইমেক্স ইউনানী ফার্মাসিটিক্যালস এটি ঢাকায় মানিকনগরে অবস্থিত।

দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে এনামুল হক সবুজ আজ প্রায় কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়াটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, শ্রম আর মেধা দিয়ে তিনি শীর্ষে অবস্থান করেছেন। এলাকার জনসাধারণের মধ্যে তিনি ব্যাপক ভাবে সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছিলেন। তার এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার। পবিত্র ঈদুল আজহার দিবাগত রাত ৪টার সময় তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। শুশুর জুলহাস সরদার ভোর রাতে তাকে ডামুড্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুর্তজা আল মুঈদ জানান, আদালতের নির্দেশে আমি উপস্থিত থেকে সিআরপিসি ১৭৬ ধারায় কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করি।


error: Content is protected !!