Tuesday 16th April 2024
Tuesday 16th April 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

ডামুড্যায় জোর পূর্বক জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ

ডামুড্যায় জোর পূর্বক জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নে নিলামে ক্রয় করা জমির কাগজপত্র চুরি করার পর জোর পূর্বক জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চরমালগাঁও ডগারপাড় গ্রামে। এ ঘটনায় ওই গ্রামে কয়েকবার দরবার সালিস হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় থানা ও আদালতে কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয় ইব্রাহিম হোসেন আকতার শিকদার জানায়, ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের ১ নং চরমালগাঁও মৌজার ২০১ খতিয়ান ১ একর ৭৫ শতক জমি ১৯৬২-৬৩ সালের ২০৯ নং সিসি কেসে নিলামে উঠলে স্থানীয় ইয়াসিন শিকদার পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে জমি নিলামে ক্রয় করেন। ক্রয়সূত্রে সম্পত্তির মালিক হন ইয়াসিন শিকদার।
পরবর্তিতে ১ একর ৭৫ শতাংশ জমির মধ্যে ১ একর ৪০ শতাংশ জমি ১১ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে আ: ছামাদ শিকদারের কাছে বিক্রি করেন। আর বাকি ৩৫ শতাংশ জমিতে ইয়াসিন শিকদার তার পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। হঠাৎ করে ১৯৯০ সালে ইয়াসিন শিকদার স্ত্রী ও সন্তানদের রেখে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে নিলামের সেই কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে যান আবু আলেম সিকদার (৪৫) ও জাব্বার শিকদার (৫০)। এ ঘটনায় ইয়াসিন শিকদারের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন আকতার শিকদার নিকটস্থ থানায় মামলা করেন।
মামলার পর চরমালগাঁও গ্রামে দরবার সালিস বসলে আবু আলেম শিকদারগংরা নিলামের কাগজপত্র নেয়ার কথা স্বীকার করেন। এলাকার সালিসদের উপস্থিতিতে কাগজপত্রের মূলকপি ইব্রাহিম হোসেন আকতার শিকদারের কাছে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও ফেরত দেননি। এখন ইব্রাহিম হোসেন আকতার শিকদারের ৩৫ শতাংশ জমিতে জোরপূর্বক পাকা ভবন নির্মাণ করে বসবাস করছেন আবু আলেম শিকদারগংরা।
ইব্রাহিম হোসেন আকতার শিকদার বলেন, ৩৫ শতাংশ জমি আমার বাবা নিলাম খরিদ করেছে। কিন্তু নিলাম খরিদের কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে আবু আলেম সিকদার ও জাব্বার শিকদাররা। এখন সেই জমি দখল করে পাঁচতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে এক তলা বিল্ডিং করেছে, প্রতিবাদ করলে আমাদের মৃত্যুর হুমকি দেয় ওরা। তাই আমি থানায় ও আদালতে মামলা করেছি। আমি আমার বাবার সম্পত্তি ফিরে পেতে চাই।
এদিকে, জমি দখল ও নিলাম খরিদের কাগজপত্র চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে আবু আলেম শিকদার অস্বীকার করে বলেন, জমি আমাদের তাই আমাদের জমিতে আমরা ঘর তুলেছি। তবে এই জমি নিয়ে একাধিক মামলা রয়েছে।
চরমালগাঁও গ্রামের গ্রাম্যসালিস কামাল হাওলাদার বলেন, জমিগুলো ইয়াসিন শিকদার নিলাম খরিদ করেছেন। সেই কাগজপত্র চুরি হয়েছে। এই জমি নিয়ে একাধিকবার সালিস হয়েছে। চুরি হওয়া জমির কাগজপত্র আবু আলেম শিকদারের কাছে বলে তিনি স্বীকার করেছে।
ধানকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বর নুরু ঢালী বলেন, ওই জমি নিলামে খরিদ করেছে ইব্রাহিম হোসেন আকতার শিকদারের বাবা ইয়াসিন শিকদার। কিন্তু সেই জমি নিয়ে মামলা আছে। মামলা আছে তবুও বিল্ডিং করেছে আবু আলেম শিকদার। এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার দরবার-সালিস করেছি। কিন্তু সমাধান করতে পারিনি।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. শামীম বলেন, এ ব্যাপারে কেহ আমাদের কাছে আসেননি। তবে বিষয়টি আমরা দেখছি।