শনিবার, ৩০শে মে, ২০২০ ইং, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
শনিবার, ৩০শে মে, ২০২০ ইং

ডামুড্যায় কৃষকদের অর্থের লোভ দেখিয়ে ফসলী জমিতে মাছের ঘের করার অভিযোগ

ডামুড্যায় কৃষকদের অর্থের লোভ দেখিয়ে ফসলী জমিতে মাছের ঘের করার অভিযোগ

শরীয়তপুর ডামুড্যা উপজেলার সিধলকুড়া ইউনিয়নের চর সিধুল কুড়া গ্রামে কৃষকদের অর্থের লোভ দেখিয়ে ৩ ফসলী জমিতে মাছের ঘের করার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফসলী জমির উপরিভাগ ভ্যাকু দিয়ে কেটে চারপাশে বড় করে বাঁধ দিচ্ছে।
সাংবাদিক দেখে দৌড়ে আসেন গ্রামবাসী, এসময় সিধুলকুড়া ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার হারুন মাল জানান, কনেশ্বর ইউনিয়নের মোজাফফর মাষ্টারের ছেলে মাহবুব তপাদার সিধুলকুড়া ইউনিয়নে এসে এই মাছের ঘের করছে।
কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ১৪ একর ৩ ফসলী জমিতে এই মাছের ঘের করছে। আমারও জমি রয়েছে। আমাকে ২০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছে। আমি নেইনি। কারণ এখানে মাছের ঘের হলে চারপাশের প্রায় ৩ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতা সহ ঘরবাড়ী মাছের ঘেরে ভেঙে পড়বে।
সিধুলকুড়া ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বলেন, এই জমি ৩ ফসলী। সোনার ফসল ফলায় কৃষকরা। আমি এই মাছের ঘের করার বিরোধিতা করি। মাছের ঘের করলে। চার পাশের প্রায় ৩ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ী ভেঙ্গে পড়ার আশংকা রয়েছে।
চর সিধুল কুড়া গ্রামের কৃষক আবুল হাসেম মাদবর বলেন, আমি জমি দিয়া কলে আটকাইয়া গেছি। দক্ষিণ চর সিধুল কুড়া ও উত্তর চর সিধুল কুড়া খালের খাস জায়গায় বাড়ি করে দুই পাশ আটকাইয়া হালাইছে। আমরা জানতাম স্বাভাবিক ভাবে বান (বাঁধ) দিয়া মাছ ছাড়বো। এখন তারা ভেকু দিয়া মাটি কাইটা যে ভাবে পাড় বানতাছে, তাতে করে আমাদের জমি’র আইল খুঁজে পাওয়া যাবে না।
কৃষক মানিক মাল জানান, আমরা শুরু থেকে না করার পরেও জমি কাটছে। এই ফসলী মাঠে প্রায় ৪০ জনের জমি আছে। এর মধ্যে ৩০/৩২ জন জমি দিয়ে এখন তারা ফেরত চাচ্ছে। অনেকেই অনিহা প্রকাশ করছে। এলাকার প্রভাবশালী তাহের হাওলাদার গংদের ভয়ে ঘেরর কাজ বন্ধ করতে সাহস পাচ্ছে না।
এ বিষয়ে মাহবুব তপাদার (মাছের প্রজেক্ট মালিক) বলেন, সিধুলকুড়া গ্রামের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে এই মাছের ঘের প্রস্তুত করছি। প্রশাসনের কোন অনুমতি নেই।
এ ব্যাপারে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলরুবা শারমীন এর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।