মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

গোসাইরহাটে ক্রিকেট খেলতে নিষেধ করায়, বাড়িতে হামলা

গোসাইরহাটে ক্রিকেট খেলতে নিষেধ করায়, বাড়িতে হামলা

গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম মাছুয়াখালী গ্রামে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে জীবননাশের পায়তারায় করোনার লকডাউন অমান্য করে বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গত ১২ এপ্রিল রবিবার সকাল ৮টার দিকে পশ্চিম মাছুয়াখালী গ্রামের আ: রহমান শিকদারের বাড়িতে করানার লকডাউন অমান্য করে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আ: রহমান শিকদারের বাড়ি সংলগ্ন পশ্চিম পাশে জনৈক দেলোয়ার শিকদারের পরিত্যক্ত বালুর মাঠের মধ্যে একই গ্রামের সুলতান শিকদারের ছেলে শওকত হোসেন শিকদার, লিয়াকত হোসেন শিকদার ও শামীম শিকদার লোকজন নিয়ে ক্রিকেট খেলা করিতে থাকে। তখন আ: রহমান শিকদারের ছেলে সোহেল শিকদার আসিয়া খেলোয়াদের উদ্দেশ্যে বলে যে, এক সাথে লোকজন জড়ো হইয়া খেলাধুলা করা ঠিক না। করোনা ভাইরাসের কারনে জড়ো হইয়া খেলাধুলা করা সরকারিভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এ কথা শুনে সুলতান শিকদারের ছেলে শওকত হোসেন শিকদার, লিয়াকত হোসেন শিকদার ও শামীম শিকদার বলে যে সোহেল শিকদার করোনা বিষয়ে নিষেধ করার কে? এ কথা বলে সোহেল শিকদারের উপর শওকত হোসেন শিকদার চড়াও হয়ে ঝাপিয়ে পড়ে এবং এলোপাথাড়ি মারপিঠ করে। সোহেল শিকদারের বাবা আ: রহমান শিকদার বাধা দিলে তার উপরও সুলতান শিকদারের ছেলেরা এলোপাথাড়ি মারপিঠ করে। এ বিষয়ে এলাকার গণ্যমান্য লোকজন জানতে পেরে মিমাংসা করার জন্য এগিয়ে আসে। পরে ১২ এপ্রিল সকাল ১০টায় আ: রহমান শিকদারের বাড়িতে সালিশ মিমাংসার জন্য বসার কথা থাকলেও সুলতান শিকদারসহ তার ছেলেরা লোকজন ভাড়া করে এনে সকাল ৮টায় সোহেল শিকদারকে মেরে ফেলার পায়তারায় হামলা করে। আ: রহমান শিকদার ও তার মেয়ে শাবনাজ এতে বাধা দিতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয়ে ছেনদা, রামদা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। আ: রহমান শিকদারের মাথায় এলোপাথাড়ি কোপে সে মাটিতে বেহুশ অবস্থায় পড়ে থাকে ও তার মেয়েকেও কুপিয়ে শরীরের ২/৩ স্থানে জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য আ: রহমান শিকদার ও তার মেয়ে শাবনাজকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে আ: রহমান শিকদারের স্ত্রী মোসা: মিলনতারা বাদী হয়ে গোসাইরহাট থানায় মামলা করেছে এবং সাথে সাথে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ শওকত শিকদারকে ধরে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে আ: রহমান শিকদারের স্ত্রী মোসা: মিলনতারা র সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, গত ১১ এপ্রিল শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আমাদের বাড়ি সংলগ্ন পশ্চিম পাশে জনৈক দেলোয়ার শিকদারের পরিত্যক্ত বালুর মাঠের মধ্যে একই গ্রামের সুলতান শিকদারের ছেলে শওকত হোসেন শিকদার, লিয়াকত হোসেন শিকদার ও শামীম শিকদার লোকজন নিয়ে ক্রিকেট খেলা করিতে থাকে। তখন আমার ছেলে সোহেল শিকদার আসিয়া খেলোয়াদের উদ্দেশ্যে বলে যে, এক সাথে লোকজন জড়ো হইয়া খেলাধুলা করা ঠিক না। করোনা ভাইরাসের কারনে জড়ো হইয়া খেলাধুলা করা সরকারিভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এ কথা শুনে সুলতান শিকদারের ছেলে শওকত হোসেন শিকদার, লিয়াকত হোসেন শিকদার ও শামীম শিকদার বলে যে সোহেল শিকদার করোনা বিষয়ে নিষেধ করার কে? এ কথা বলে সোহেল শিকদারের উপর শওকত হোসেন শিকদার চড়াও হয়ে ঝাপিয়ে পড়ে এবং এলোপাথাড়ি মারপিঠ করে। এ সময় আমার স্বামী আ: রহমান শিকদার বাধা দিলে তার উপরও সুলতান শিকদারের ছেলেরা এলোপাথাড়ি মারপিঠ করে। এ বিষয়ে এলাকার গণ্যমান্য লোকজন জানতে পেরে মিমাংসা করার জন্য এগিয়ে আসে। পরে ১২ এপ্রিল আমাদের বাড়িতে সালিশ মিমাংসার জন্য বসার কথা থাকলেও সুলতান শিকদারসহ তার ছেলেরা লোকজন ভাড়া করে এনে সকাল ৮টায় আমার সোহেল শিকদারকে মেরে ফেলার পায়তারায় হামলা করে। এতে আমার স্বামী আ: রহমান শিকদার ও মেয়ে শাবনাজ বাধা দিতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয়ে ছেনদা, রামদা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। আমার স্বামী আ: রহমান শিকদারের মাথায় এলোপাথাড়ি কোপে সে মাটিতে বেহুশ অবস্থায় পড়ে থাকে ও আমার মেয়েকেও কুপিয়ে শরীরের ২/৩ স্থানে জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য আমার স্বামী আ: রহমান শিকদার ও আমার মেয়ে শাবনাজকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এ বিষয়ে গোসাইরহাট থানায় হামলাকারী সুলতান শিকদারের ছেলে শওকত হোসেন শিকদার(২৪), লিয়াকত হোসেন শিকদার(২৬), শামীম শিকদার(২০) মৃত জয়নাল শিকদারের ছেলে সুলতান শিকদার(৬০), সুলতান শিকদারের স্ত্রী শাহনাজ বেগম(৫০), ঢাকেরহাটি গ্রামের মুজিবর শিকদারের ছেলে লিটন শিকদার(৩২) আবুল হোসেন আকনের ছেলে জাকির হোসেন আকন(৪০), মুক্তার হোসেন আকন(৩৫), আব্দুল লতিফ আকনের ছেলে দ্বীন ইসলাম আকন(২৫) এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।

ঘটনার বিষয়ে এলাকার সালিশ নুরুজ্জামান মৃধাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ক্রিকেট খেলা নিয়ে সুলতান শিকদার ও আ: রহমান শিকদারের ছেলের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়। আ: রহমান শিকদারের ছেলে সোহেল শিকদার নাকি সুলতান শিকদারের ছেলেদের করোনা ভাইরাসে জড়ো হয়ে খেলতে নিষেধ করেছিল। এ নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে সুলতান শিকদার ও তার ছেলেরা দলবল নিয়ে আ: রহমান শিকদারের ছেলে সোহেল শিকদারকে মারার উদ্দেশ্যে বাড়িতে হামলা করে। এতে আ: রহমান শিকদার ও তার মেয়ে আহত হয়। মাথায় কুপিয়ে আঘাত করার কারনে আ: রহমান শিকদার অনেকদিন হাসপাতালে ছিল। কিছুদিন হয় তারা বাড়িতে এসেছে। আমরা বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সুলতান শিকদার তা মানতে চায় না। তারা বলেছে, যেহেতু মামলা হয়েছে মামলায়-ই বুঝবো।

আ: রহমান শিকদারের জখম হওয়ার বিষয়ে গোসাইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমানকে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে ডা. তানিয়া জানে। তার মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি বলেন, তানিয়ার নম্বর আমার কাছে নেই। পরে যখন মাথায় জখমের নরমাল সার্টিফিকেট প্রদানের বিষয়ে জানতে চাই, তখন তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনী প্রক্রিয়ায় সিভিল সার্জন বরাবর দরখাস্ত করলে আমরা তদন্ত কমিটি করে পূন: সার্টিফিকেট দেব।

গোসাইরহাট থানা ওসি মোল্লা সোহেব আলীর নিকট এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ করে সঠিক বিচারের আওতায় প্রেরণ করা হবে।


error: Content is protected !!