মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ ইং, ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ ইং

বিবাহ বার্ষিকী পালন না করে, সেই অর্থ গোসাইরহাট অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করলেন এক দম্পতি

বিবাহ বার্ষিকী পালন না করে, সেই অর্থ গোসাইরহাট অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করলেন এক দম্পতি

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ধীপুর গ্রামের রামনাথ নন্দী ও মিনতী রানী দাস দম্পতির ৫০তম বিবাহ বার্ষিকী পালন না করে, সেই অর্থ করোনা দুর্যোগে প্রতিবেশী বেকার, বানভাসী, গরীব ও হতদরিদ্র ৫০ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

বুধবার ২৯ জুলাই সকাল ১০ টায় ইদিলপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এ ঈদ উপহার দেন তারা। ঈদ উপহার বিতরণকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলমগীর হুসাইন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইদিলপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমদাদুল হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সহ-সম্পাদক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল শেখ, গোসাইরহাট উপজেলার ছাত্র লীগের সভাপতি মোস্তফা কামাল ফরাজী, উপজেলার ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক দেওয়ান আজমল হোসেন নয়ন, পৌরসভার ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনায়েত হোসেন খান, রিমন হোসেন ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

রামনাথ নন্দী একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন, সে ইদিলপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও মিনতী রানী দাস একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকুরীজীবি। রামনাথ নন্দী ও মিনতী দাসের পারিবারিক জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। দুই ছেলেই আইটিতে কর্মরত এবং আমেরিকাতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং একমাত্র মেয়ে সরকারী ডাক্তারী পেশায় কর্মরত আছেন।

রামনাথ নন্দী একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন সে ইদিলপুর সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ইদিলপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, হাটুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নাগেরপারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুলে সুনামের সহিত শিক্ষকতা করেছেন। সর্বশেষ ইদিলপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসরে যান। তার অনেক ছাত্রছাত্রী এখন দেশে-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে সুনামের সহিত কর্মরত আছেন। আদর্শবান, বিনয়ী ও পর উপকারী এই পরিবার গোসাইরহাট উপজেলার সবচেয়ে পুরানো ও ঐতিহ্যবাহী নন্দী পরিবার জন্মগ্রহণ করেন।

বড় ছেলে তাপস নন্দি বলেন, আমার বাবা-মা তাদের ৫০তম বিবাহ বার্ষিকীতে কোন অনুষ্ঠান না করে গরীব হতদরিদ্রদের মাঝে সামান্য উপহার দিতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। আমরা করোনা কালীন সময়ে নীরবে আমাদের সাধ্যমত দেশের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার পরিবারের জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন আমাদের সহযোগীতা অব্যাহত রাখতে পারি।

রামনাথ নন্দী বলেন, অবসর সময় কখনও সন্তানদের সাথে আমেরিকায়, কখনো ঢাকায়, আমেরিকার বিলাস জীবন ছেড়ে মাতৃভুমির টানে চলে আসি। আমার সৌভাগ্য যে আমি আমার জন্মভূমিতে ৫০তম বিবাহ বার্ষিকী পালন করতে পেড়েছি। আমি মনে করছি এ সময় অনুষ্ঠানের চেয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো বেশি প্রয়োজন, তাই এ বছর আমরা বিবাহ বার্ষিকী অনুষ্ঠান না করে, সেই অর্থ অসহায় মানুষকে ঈদ উপহার হিসেবে দিয়েছি।

গোসাইরহাট পৌরসভা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এনায়েত হোসেন খান বলেন, ছাত্রলীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মী ও আপনাদের সন্তান হিসেবে তাদের পরিবারের পক্ষে শ্রদ্ধেয় দাদা-দাদীর আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক রামনাথ নন্দী ও মিনতী দাসের সুস্বাস্থ্য ও দির্ঘায়ু করছি। তাদের এ সহযোগীতা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

গোসাইরহাট উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ আলমগীর হুসাইন বলেন, আমি এ রকম সহযোগিতা আগে কখনো দেখি নাই, যে নিজের বিবাহ বার্ষিকী পালন না করে, সেই অর্থ অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করে দেয়। আমি তার সহযোগিতাকে সাধুবাদ জানাই এবং তার দীর্ঘ আয়ু কামনা করি।