মঙ্গলবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২১ ইং, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ই রমজান, ১৪৪২ হিজরী
মঙ্গলবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২১ ইং

গোসাইরহাটের নারী নৌকার মাঝী মিলন নেছাকে ঘরের চাবি হস্তান্তর করলেন শরীয়তপুরের ডিসি

গোসাইরহাটের নারী নৌকার মাঝী মিলন নেছাকে ঘরের চাবি হস্তান্তর করলেন শরীয়তপুরের ডিসি

নৌকায় মানুষ পারাপার করে একখণ্ড জমি কিনেছেন মিলন নেছা (৫২)। কিন্তু সে জমিতে ঘর নির্মাণ করতে পারেননি তিনি। নৌকায় ছোট ছেলেকে নিয়ে থাকেন। সাংবাদিকরা মিলন নেছাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর। পরে তার কার্যালয় থেকে মিলন নেছাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়।

শনিবার (২০ মার্চ) দুপুরে মিলন নেছার ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো: পারভেজ হাসান। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঘরের কাজের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গৃহহীন-ভূমিহীনদের ঘর ও জমি প্রদানের কার্যক্রম নিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে আজ আমরা শরীয়তপুরের নারী খেয়াঘাটের মাঝি মিলন নেছাকে একটি ঘর দিলাম। এটি আমাদের সকলের আনন্দের ও গৌরবের।

এ সময় গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক ঢালী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলমগীর হুসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাহমিনা আক্তার চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গোসাইরহাট পৌরসভার কাউন্সিলর আলী আকবর সরদার ও কাউন্সিলর হুমায়ন সিকদার বলেন, মিলন নেছা নদীতে নৌকা চালিয়ে মানুষ পারাপার করতেন। তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। তাই তিনি ঘর পেলেন। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ূ কামনা করি।

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে জয়ন্তী নদীতে নৌকায় মানুষ পারাপার করেন মিলন নেছা। মিলনের যখন বয়স ২২ বছর, তখন তার বাবা মারা যান। তারা তিন বোন ও তিন ভাই। বাবার পথ অনুসরণ করে ওই বয়সেই সংসারের হাল ধরতে মাঝির কাজ শুরু করেন মিলন। প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করেন। তাছাড়া দুই পারের কিছু মানুষ বছরে যা ফসল পায় তার একটি অংশ দিয়ে সহযোগিতা করেন মিলনকে।

নৌকায়ই রান্না-খাওয়া, নৌকায়ই বসবাস তার। নৌকা পারাপার করে কিছু টাকা সঞ্চয় করেছেন। জীবনের শেষ সঞ্চয় দিয়ে ছয় শতক জমিও কিনেছে তিনি। কিন্তু ঘর তুলতে পারেননি। তার স্বামী রহম আলী সরদার ১৫ বছর আগে তাকে ও দুই ছেলেকে রেখে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। বড় ছেলে আব্দুল খালেক (২৬) বিয়ে করে আলাদা থাকে। নদীর পাড়ে ছাউনি নৌকায় ছোট ছেলে আব্দুল মালেককে (২২) নিয়ে থাকেন তিনি।

এদিকে ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মিলন নেছা বলেন, আগে নৌকায় মানুষ পারাপার করতাম, নৌকায়ই থাকতাম। সাংবাদিকরা আমার কষ্ট দেখে, নিউজ করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ঘর দিল। সন্তানদের নিয়ে ঘরটিতে থাকবো। আমি খুবই খুশি।