রবিবার, ৩১শে মে, ২০২০ ইং, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
রবিবার, ৩১শে মে, ২০২০ ইং

গোসাইরহাটে র‌্যাব-ম্যাজিষ্ট্রেট ও ড্রাগ সুপারের অভিযানে ভেজাল ঔষধ উদ্ধার

গোসাইরহাটে র‌্যাব-ম্যাজিষ্ট্রেট ও ড্রাগ সুপারের অভিযানে ভেজাল ঔষধ উদ্ধার

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে নকল ভায়াগ্রা বিক্রি হচ্ছে মর্মে গোপন সূত্রে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮, সিপিসি-৩ মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল কোম্পানী অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এর নেতৃত্বে শরীয়তপুর জেলার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ জাবের আহমেদ এবং নূরুল আলম ড্রাগ সুপার, শরীয়তপুর এর উপস্থিতিতে গত ৮ আগষ্ট ২০১৮ বুধবার দুপুর ২ টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪ টা ২০ মিনিট পর্যন্ত শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানা এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন ও ঔষধ প্রশাসন এবং মাদারীপুর র‌্যাবের উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা কালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানাধীন গোসাইরহাট বাজারে মের্সাস জননী মেডিকেল হল, জনকল্যাণ মেডিকেল হল এবং সেবা মেডিকেল হল সমূহে ভেজাল ওষুধ বিক্রয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি মেডিকেল হল সমূহের কাছে পৌছলে উপস্থিতি টের পেয়ে মেডিকেল হলের মালিকরা পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দলের সদস্যরা তাদেরকে ঘেরাওপূর্বক আটক করেন। আটককৃত ব্যক্তিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নাম সঞ্জিত কুমার কর্মকার (৪০), পিতাঃ মৃত শ্যাম সুন্দর কর্মকার, সাং-দাসের জঙ্গল, থানাঃ গোসাইরহাট, জেলাঃ শরীয়তপুর, রাজীব সরকার (৩০), পিতাঃ শচি নন্দন সরকার, সাং- রুপসা, থানাঃ ফরিদগঞ্জ, জেলাঃ চাঁদপুর এবং সুভাষ চন্দ্র সরকার (২৮), পিতাঃ সুরেশ চন্দ্র সরকার, সাং- দাসের জঙ্গল, থানাঃ গোসাইরহাট, জেলাঃ শরীয়তপুর বলে জানায়।
অভিযানে মেসার্স জনকল্যাণ ফার্মেসী থেকে ভারতীয় যৌন উত্তেজক নকল ভায়াগ্রা, ইডিগ্রা, কামাগ্রা, টারগেট, ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণে ভারতের তৈরী নিমুসুলাইড, পেরিকটিনসহ নকল ভেজাল নি¤œ মানের বিক্রয় নিষিদ্ধ ঔষধ উদ্ধার করে ড্রাগ এ্যাক্ট-১৯৪০ এর ১৮, ২৭ ধারা লংঘন এর দায়ে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তাছাড়া মেসার্স জননী মেডিকেল হল এবং সেবা মেডিকেল হল থেকে বিপুল পরিমাণ নকল ভেজাল বিক্রয় নিষিদ্ধ স্যাম্পলসহ মেয়াদ উত্তীর্ণ ড্রাগ লাইসেন্সে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে ৫০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। উদ্ধারকৃত নকল ভেজাল ঔষধ সমূহের মধ্যে ভারতীয় নকল সানাগ্রা-১০০, ভেটনোভেট-এন, প্যারিকটিয়ান, নিমো, এন-সিপ-১০০, সেটজেন, নিমস-পি, ডেক্সিন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
পবরর্তীতে শরীয়তপুর জেলার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ জাবের আহমেদ কর্তৃক আটককৃত আসামীদেরকে ড্রাগ আইন ১৯৪০ এর ১৮ ও ২৭ ধারার অপরাধে মোট ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং উদ্ধারকৃত ওষুধ সামগ্রী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর উপস্থিতিতে গোসাইরহাট গরুর হাট মাঠে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জরিমানা আদায়পূর্বক ধৃত আসামীদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকান্ড না করার জন্য আদেশ প্রদান করা হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে শরীয়তপুরের ড্রাগ সুপার মোঃ নুরুল আলম বলেন, ভায়াগ্রা সহ নকল ভেজাল নি¤œ মানের ঔষধ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরুপ। এ ধরনের ঔষধ সেবনে কিডনী লিভার হার্ট ফেলিউর সহ জীবন বিপন্ন হওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাছাড়া যেখানে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মান , অষ্ট্রেলিয়া ও আমেরিকা সহ বিশে^র ১৫৫ টি দেশে বাংলাদেশের ঔষধ রপ্তানি হচ্ছে সেখানে এক শ্রেণির অসাধু ঔষধ ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারী পরস্পর যোগসাজশে নকল ভেজাল নি¤œ মানের ঔষধ কালো বাজারী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরবরাহ করে দেশের মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে শরীয়তপুর বাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। ঔষধ প্রশাসনের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ড্রাগ সুপার আলম রুদ্রবার্তাকে টেলিফোনে জানান। শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ জাবের আহমদ, র‌্যাব কম্পানী কমান্ডার মাদারীপুর মোঃ তাজুল ইসলাম সংগীয় র‌্যাব ফোর্স ও সহকারীদের নিয়ে উল্লেখিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বলে সুত্র নিশ্চিত করেছে।