মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

গোসাইরহাটে আশ্রয়ন প্রকল্প বেহাল অবস্থা, ঘর ছেড়ে যাচ্ছেন আশ্রিতরা

গোসাইরহাটে আশ্রয়ন প্রকল্প বেহাল অবস্থা, ঘর ছেড়ে যাচ্ছেন আশ্রিতরা

শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলায় আলাওলপুর (সাবেক গরীবের চর ইউনিয়ন) ইউনিয়নে চর জালালপুর নান্নু মুন্সীর কান্দি গ্রামে সংস্কারের অভাবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে গোসাইরহাট উপজেলার হতদরিদ্রদের জন্য নির্মিত আশ্রায়ন প্রকল্প। কিন্ত গত দুই দশক ধরে আশ্রিতরা জরার্জীন এসব দুই চালা টিনের ঘরে মানবেতর-জীবনযাপন করলে মেরামতের কোন উদ্যোগ নিচ্ছেনা কর্তৃপক্ষ। অনেকেই আশ্রয়ন কেন্দ্র থেকে চলে গেছেন অন্যত্র। বাধ্য হয়ে যারা বসবাস করেছেন তাদের যাওয়ার ও জায়গা নেই, তাদের ভৌগান্তির ও শেষ নেই। সরেজমিন গিয়ে জানা যায় এই প্রকল্পে ১৮টি ব্যারাক নিমার্ন করার কথা থাকলে ও ১০টি ব্যারাক একটি ব্যারাকে ১টি স্যালো টিওবয়েল ও ১টি করে শৌচাগার নির্মান করা হয় ১৯৯৭/১৯৯৮ সালে। ১০টি ব্যারাকে হতদরিদ্র নদীভাঙ্গা ও ভিটেবাড়িহারা ১০০ শত পরিবারের মধ্যে আশ্রয়ন প্রকল্প ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। ঘর বরাদ্দ পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস শুরু করে আশ্রিয়ত পরিবার গুলো। কিন্ত দুই দশক ধরে সংস্কার না হওয়ায় আশ্রয়ন প্রকল্প ঘর গুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আশ্রিয়ত পরিবারে একজন ভুক্তভোগী মধ্যে নাসির বেপারী জানান দুই বছর আগে ১টি ব্যারাক মাত্র ১০টি রোম মেরামত করেছিল। এবোত কালে আর কোন ব্যারাক মেরামত হয়নী। ফলে ৪০টি আশ্রিয়ত পরিবার ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। বাকি ৬০টি পরিবার জরর্জীন ঘরে চালে পলিথিন ছাউনী দিয়ে রোদ- বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসব পরিবারে নারী পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ৪৫৭ জন মানুষ বসবাস করছেন। আশ্রয়ন প্রকল্পের ১০টি ব্যারাকে ১০টি স্যালো টিওবয়েল ও ১০টি শৌচাগার অনেক আগেই অকেজো হয়ে গেছে। বর্তমানে পাটখড়ি বেড়াবানিয়ে শৌচাগার তৈরী করে ব্যবহার করছে আশ্রিয়তরা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান একযুগ আগে ১টি গভীর নলকূপ দিলে তাও আবার ব্যবহার অযোগ্য। আশ্রিয়ত গিয়াসউদ্দীন চেীধুরী বলেন এই প্রকল্পে ১০টি ব্যারাক ১০০ শত রোম ছিল। প্রতিটি রোমে বিদ্যুত ছিল,৭/৮ বছর আগে,ট্রাষফরর্মাটি আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর প্রতিটা রোম থেকে মিটার গুলো বিদ্যুত বিভাগের লোক এসে খুলে নিয়ে যায়। বলছিল যে নতুন ট্রাষফর্রমা দিয়ে বিদ্যুত দিব। আমরা সর্বস্য হারিয়ে এখানে আশ্রিত হয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন হতদরিদ্রর এই আশ্রয়ন প্রকল্পে, আমরা টাকা খরচ পারি না বিদায় বিদ্যুত পাই না, শরীয়তপুর জেলার নড়বালা খানা পল্লী বিদ্যুত সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বলেন এই বিষয়টি আমাকে কেউ জানায় নাই। আমাদের সাব-অফিস ডামুড্যা আমি খোঁজ খবর নিয়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা যথা শিঘ্রই করে দিব। পাশের এলাকার থেকে দুই একটি ব্র্যাকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তাতে যে কোন মুহুতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আশ্রিত রতন সরদার বলেন, এই আশ্রয়ন প্রকল্পে একটি ৮৮নং নান্নু মুন্সী কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশ্রয়ত মানুষের জন্য মাছ চাষের জন্য রহেছে দুটি বড় পুকুর। স্কুলটির শিক্ষক মাঝে মধ্যে সল্পতা হয়ে পরে তখন কোমলমতি ছাত্র/ছাত্রীদের লেখাপড়া ব্যাহত হয়। এ ছাড়া এত বড় পুকুর তার কোন রক্ষনা-বেক্ষন নাই, কারন পরিচালনা করার পুর্নাঙ্গ একটি কমিটির প্রয়োজন। এই পুকুর থেকে মাছ চাষ করে অনেক টাকা আয় করা যায়। এই আশ্রয়ন প্রকল্পটি পরিচালনার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। শাজাহান সভাপতি ও মিজানুর রহমান সাধারন সম্পাদক। সভাপতি শাজাহান মারা যাওয়ার পর আশ্রয়ন প্রকল্পের কমিটির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত না থাকায় স্বাস্থ্য-শিক্ষা এবং বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত আশ্রিত প্রকল্পের বাসিন্দরা, শিশু ও কিশোররা।


error: Content is protected !!