Thursday 30th May 2024
Thursday 30th May 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

গোসাইরহাট সরকারি পশু হাসপাতালে কম্পাউন্ডারই ডাক্তার

গোসাইরহাট সরকারি পশু হাসপাতালে কম্পাউন্ডারই ডাক্তার

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা পশু হাসপাতালের কম্পউন্ডার জিয়াউদ্দিন। যার দায়িত্ব হাসপাতালে ডিউটি করা এবং চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী অসুস্থ পশুকে ওষুধ প্রয়োগ করা। এ ছাড়া প্রাথমিক পরামর্শ দিতে পারবেন বলে জানা গেছে। কিন্তু কম্পাউন্ডার জিয়াউদ্দিন তার যে দায়িত্ব তা সঠিক ভাবে পালন না করে টাকার বিনিময়ে পশুর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। হাসপাতালে অফিস চলাকালে কোন ধরণের টাকা নেয়ার নিয়ম না থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন যাবত এ কাজ করে যাচ্ছেন। যে কেউ পশু নিয়ে হাসপাতালে আসলেই তার কাছে ছুটে যান জিয়াউদ্দিন। কন্টাক্ট করে শুরু করেন পশুর চিকিৎসা। অনেক ক্ষেত্রে ইনজেকশন না লাগলেও তিনি টাকা কামানোর ধান্ধায় পশুকে ইনজেকশন দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ তার প্রয়োজন হয় না। এ কাজ করতে গিয়ে তার অপচিকিৎসায় একাধিক প্রাণী মারা যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, অফিসের বাহিরে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়া তো দূরে থাক অফিসের বাহিরে যাওয়ারও তার নিয়ম নেই। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তিনি যেখান থেকেই খবর পান সেখানেই চিকিৎসা দিতে ছুটে যান। বিনিময়ে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা। এ সবের পিছনে তার একমাত্র উদ্দেশ্য টাকা ইনকাম করা। এ ধরণের অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুবোধ কুমার দাস গত বুধবার (২৬ জুন) গোসাইরহাট উপজেলা পশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনে গিয়ে তিনি কম্পাউন্ডার জিয়াউদ্দিনের টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পান। অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা কম্পাউন্ডার জিয়াউদ্দিনকে শোকজ করার নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান কম্পাউন্ডার জিয়াউদ্দিনকে শোকজ করেন।
গোসাইরহাট উপজেলার চরজুশিরগাও গ্রামের দরিদ্র শামীম সরদারের স্ত্রী ছালমা আক্তার গত মঙ্গলবার (২৫ জুন) তার ছাগল নিয়ে উপজেলা পশু হাসপাতালে যান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ছাগলের ডায়রিয়ার চিকিৎসার জন্য পশু হাসপাতালে নিয়ে যাই। তখন হাসপাতালের কম্পাউন্ডার আমাকে বলে, আপনার ছাগলকে সুই দিতে হবে। টাকা লাগবে তিনশ। তখন আমি তাকে বললাম, এক সপ্তাহ আগে আপনি আমার ছাগলকে সুই দেওয়ার কিছুক্ষন পরে আমার ছাগল মারা যায়। আমি আবার আমার ছাগলকে সুই দেবো না। তখন কম্পাউন্ডার জিয়াউদ্দিন বলে আপনার ছাগলকে সুই না দিলে বাঁচানো যাবে না। আমি সুই দিতে নিষেধ করার পরেও সে আমার ছাগলকে চারটা সুই দেয়। সুই দেয়ার বিনিময়ে সে আমার কাছ থেকে তিনশ টাকা নেয়। সুই দেয়ার পর থেকেই আমার ছাগল দাড়াতে পারেনা, শুধু কাপে।
ছালমা আক্তার কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি গরীব মানুষ। এক সপ্তাহ আগে কম্পাউন্ডার জিয়াউদ্দিন সুই দেওয়ার পর আমার একটি ছাগল মারা গেছে। আজকে তিনি আবার আমার ছাগলকে সুই দিয়েছে। এখন আমার ছাগল উঠে দাড়াতে পারছেনা। এই ছাগলটাও যদি মারা যায় তাহলে আমার কিছুই থাকবে না। আমি বারবার না করার পরেও কম্পাউন্ডার আমার ছাগলকে সুই দেয়। আমার ছাগল মারা গেলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ছালমার মতো আরো অনেকেই হাসপাতালে পশুর চিকিৎসা নিতে গিয়ে কম্পাউন্ডার জিয়াউদ্দিনের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। লোক বুঝে কারো থেকে ৫শ, কারো থেকে ৩শ, কারো ১ হাজার, কারো দেড় হাজার, দুই হাজার পর্যন্ত টাকা হাতিয়ে নেন কম্পাউন্ডার জিয়াউদ্দিন। এ ধরণের অনিয়ম দূর্নীতিবাজ কম্পাউন্ডার জিয়াউদ্দিনের বিচার চেয়েছে অনেক ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে জানার জন্য উপজেলা পশুপালন বিভাগে গিয়ে কম্পাউন্ডার জিয়াউদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করে বলেন, আমি নাগের পাড়ায় পশুর চিকিৎসা করতে এসেছি। আপনার সাথে এ বিষয়ে পরে কথা বলবো। এই বলে তিনি ফোন রেখে দেন। Vaikų vasaros dienos stovyklos Kaune https://intellectus.lt/dienos-stovykla/
গোসাইরহাট উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান বলেন, কম্পাউন্ডার জিয়াউদ্দিনের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে আর্থিক সুবিধা নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তাকে শোকজ করা হয়েছে। কম্পাউন্ডার জিয়াউদ্দিন শোকজের জবাবও দিয়েছে। তার শোকজের জবাব উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুবোধ কুমার দাস বলেন, আমি গোসাইরহাট উপজেলা পশু হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে কম্পাউন্ডার জিয়াউদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা নেয়ার প্রমাণ পেয়েছি। প্রমাণ পেয়ে তাৎক্ষনিক তাকে শোকজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শোকজের জবাব এখনও আমি পাইনি। জবাব পেয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।