রবিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং, ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী
রবিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং

ঘুষ ছাড়া কাজ করেন না জাজিরার তহশিলদার আলী ও তার অফিস সহায়ক

ঘুষ ছাড়া কাজ করেন না জাজিরার তহশিলদার আলী ও তার অফিস সহায়ক

ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. আলী আকবর ও তার অফিস সহায়ক রাজ্জাক।

অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে ওই তহশিলদার ও তার অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে। ভূমি অফিসের চৌকাঠ পেরুলেই তহশিলদারের নিজের করা আইন মানতে হয় ভূমিসেবা নিতে সাধারণ মানুষকে। কেউ এর প্রতিবাদ করলেই ওই ভূমি কর্মকর্তা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন সেবা নিতে আসা লোকজনের ওপর।

জয়নগর এলাকার বাবুল হাওলাদার জানান, সম্প্রতি স্থানীয় ব্যবসায়ী বাসার মোল্লা জয়নগর বাজারে দোকান ঘর তুলতে গেলে বাঁধা দেয় তহশিলদার আলী আকবর। পরে তার কাছ থেকে টাকাও চায় তহশিলদার। এ বিষয় নিয়ে আলী আকবরের সঙ্গে বাসার মোল্লার বাকবিতন্ডা হয়। তাই স্থানীয় গোপালপুর এলাকার মোহাম্মদ মাদবর, জয়নগর ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি গ্রামের বাসার মোল্লা, আলী আকবর মোল্লা, খানকান্দি গ্রামের বাবুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে শরীয়তপুর আদালতে মামলা করেন তহশিলদার আলী আকবর। সেই মালায় চারজনই জামিনে আছেন। তুচ্ছ ঘটনায় এভাবেই মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করছে বলে জানান তিনি।

বড় গোপালপুর টেকেরকান্দি গ্রামের অজিদ ব্যাপারীর ছেলে কৃষক সেলিম ব্যাপারী বলেন, জমির খাজনা (দাখিলা) বাবদ আমার কাছ থেকে নগদ ২ হাজার টাকা নিয়ে ১ হাজার টাকার একটি রশিদ হাতে ধরিয়ে দেয় তহশিলদার ও তার অফিস সহায়ক। পরচর্চা বাবদ ৫০০ টাকা নেয় যার কোন রশিদ দেননি তারা। তিনি বলেন, কাগজপত্র সম্পর্কে আমার ধারনা নেই। আমি খাজনা কেটে ও পরচর্চা নিয়ে বাড়িতে গেলে আমার ভাই বলেন, খাজনা কাটতেতো ১ হাজার টাকাই লাগে না। ২ হাজার টাকা দিছ কেন?

জয়নগর মোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আবু বকর রনি বলেন, আমরা জয়নগর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। আমি সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ভূমি অফিসে একটি কাগজের জন্য গেলে তুসিলদার আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। কোন কথা বলার সুযোগই দেয়নি। আমাদের এলাকার সহজ-সরল লোকজন জমির বিভিন্ন কাজে যায় তুশিলদার আলী আকবরের কাছে। আমি দেখেছি, সহজ-সরল লোকজনদের ২৫০ টাকার রশিদের বিনিময়ে নগদ ৪ হাজার টাকা করে নিচ্ছে তহশিলদার।

বড় গোপালপুর বাজারের চায়ের দোকানদার বাদশা মাদবর, কৃষক ফজল কাজি, এলেম খাঁসহ অনেকেই বলেন, জাজিরা উপজেলার জয়নগর ও বড় গোপালপুর ইউনিয়ন নিয়ে জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস। সেই অফিসে মিউটেশন, খাজনা, পরচর্চা, খাসজমি বন্দবস্ত, ভিপি জমি খাজনা কাটতে গেলে জয়নগরের তহসিলদার ও তার অফিস সহায়ক সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফির চেয়ে দ্বিগুণ টাকা নিচ্ছে।

এদের মতো একই অভিযোগ ওই ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা বেশির ভাগ মানুষের। নাম খারিজের বেলায় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৫০ টাকা হলেও অতিরিক্ত হিসেবে ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন ওই তহশিলদার।

জয়নগর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. আলী আকবর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি জমির খাজনা (দাখিলা) বাবদ কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেই না। আমি পরচর্চাতো দেইনা। আমার স্পষ্ট কথা।

জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেনু দাস বলেন, আমরা কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তদন্ত করবো, অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হবে।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসমাউল হুসনা লিজা মুঠোফোনে বলেন, আমরা এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।