সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং

পদ্মায় বিলিন হচ্ছে জাজিরার চর এলাকা, ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকবাসীর মানববন্ধন

পদ্মায় বিলিন হচ্ছে জাজিরার চর এলাকা, ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকবাসীর মানববন্ধন

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের পদ্মাসেতু সংলগ্ন পাইনপাড়ার চর, আহমেদ মাঝি কান্দী, পাইনপাড়া মাঝি কান্দি ও বেপারী কান্দি এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক মাসে প্রায় শতাধিক পরিবার ভাঙ্গনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন পার করছে।

বিলিন হয়েছে কয়েশ জমির ফসল ও গাছ-পালা। ভাঙ্গনের হুমকির মুখে রয়েছে প্রায় তিন হাজার পরিবার। ভাঙ্গন আতঙ্কের মধ্যে ওই চরের বাসিন্দারা ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মাববন্ধন করেছে।

রোববার (৩০ মে) বেলা ১১টা ও ১টার সময় আহামেদ মাঝী কান্দি ও পাইনপাড়া মাঝী কান্দি, বেপারী কান্দি এলাকার পৃথক ভাবে তারা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহন করেন। তারা দাবী করপন, পদ্মা সেতুর ক্যানেলে ৩৩ ও ৩৪ নং পিলারের সামনে অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেজিং ও ক্রস বাঁধ নির্মাণের কারণে জাজিরা উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন পূর্ব নাওডুবা ইউনিয়নের অছিম উদ্দিন মাদবর কান্দি ও মোমেন মোল্লা কান্দি এলাকায় প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়। এই স্রোতে ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি গাছপালা সহ কয়েক একর ফসলি জমি। এ ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায়, তাদের শেষ আশ্রয় সম্বল টুকু রক্ষা ও ক্ষতিপুরনের দাবিতে তারা আহাদি মাঝী কান্দি ও পাইনপাড়া মাঝী কান্দি, বেপারী কান্দি এলাকায় পৃথক ভাবে দুই স্থানে মানববন্ধন করেছে।

মানববন্ধনে স্থানীয় মোসলেম উদ্দিন মাদবর, আব্দুর রাজ্জাক মাঝী, রোকন মাঝী, মালেক মোস্তাক ও আব্দুল লতিফ বেপারী নেতৃবৃন্দসহ এলাকার সকলের, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণসহ বাকি এলাকার ভাঙ্গন রোধে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণেরর দাবি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। মানববন্ধনে এলাকাবাসী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন জনদরদী। তিনি সব সময় গরিব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। আমরা এলাকার অনেকেই আমাদের শেষ সম্বল টুকু হারিয়ে ফেলেছি। যতটুকু অবশিষ্ট আছে, ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় তাও নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। অতি দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে, আমাদের শেষ সম্বল রক্ষাসহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। আমরা আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সহানুভূতির দৃষ্টি দেবেন।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, পদ্মা সেতু সংলগ্ন বা ভেতরের অংশে, পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন কাজ করে না। বাংলাদেশ ব্রীজ অথরিটি আছে, তারাই এ কাজটি করে থাকে। যদি কিছু হয়ে থাকে, তাদেরকে জানাতে হবে এবং তারাই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন। যেহেতু পদ্মা সংশ্লিষ্ট বিষয়, তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু করার নেই।