সোমবার, ২৩শে মে, ২০২২ ইং, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২২শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরী
সোমবার, ২৩শে মে, ২০২২ ইং

জাজিরায় অসুস্থ গরু বিক্রির অভিযোগ, এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে ক্ষোভ

জাজিরায় অসুস্থ গরু বিক্রির অভিযোগ, এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে ক্ষোভ

শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের দেওয়ান কান্দি এলাকায় একটি অসুস্থ গরু বিক্রয় কে কেন্দ্র করে, এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে ক্ষোভ, উঠেছে বিভিন্ন অভিযোগ। বিশ্বস্ত সূত্র জানা যায়, গরুটি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ না হওয়ায়, গতকাল (১৪ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপনে কোন এক মাংস বিক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়।

সরেজমিনে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকার লিটন দেওয়ান এর একটি গরু প্রায় দেড় মাস যাবৎ অসুস্থ হয়ে দাঁড়াতে পারে না এবং খাদ্য প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসা করে গরুটিকে সুস্থ করতে না পারায়, স্থানীয় গরুর দালালের মাধ্যমে গোপনে গরুর মাংস বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেয়। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে কানা-ঘুষা।  গরুর মালিক লিটন দেওয়ান জানান, হঠাৎ করে গরুটি দাঁড়াতে পারে না। তাই স্থানীয় পশু চিকিৎসক সেকান্দার ডাক্তারকে ডাকা হলে তিনি জানান গরুর কোমরের হাড় ভেঙ্গে গিয়েছে। কিছুদিন চিকিৎসার পরে ডাক্তার জানান গরুটি আর সুস্থ হবেনা বিক্রি করে দেন। তাই আমি স্থানীয় পশু ক্রেতা-বিক্রেতা ফেরদৌস এর মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকায় গরুটি কসাই এর কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। গরুটি সুস্থ অবস্থায় মূল্য কত ছিলো, এমন প্রশ্নে উত্তরে গরুর মালিক জানান, সুস্থ অবস্থায় গরুটির মূল্য ছিল ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। 

পল্লী পশু চিকিৎসক ডাক্তার সেকান্দার বলেন, সরকারি পশু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ইনজেকশন সহ কিছু চিকিৎসা দিয়েছি। ধারণা করা হচ্ছে গরুটির কোমরের হাড় ভেঙে গিয়েছে। তবে এটা বিক্রি করার কথা আমি বলিনি।  পার্শ্ববর্তী গঙ্গানগর বাজারের মাংস বিক্রেতা কালাম ঢালী জানান, গরুটি আমার কাছে বিক্রি করতে চেয়েছিল। কিন্তু অসুস্থ গরু বিধায় আমি গরুটি ক্রয় করিনি। আমি অর্ধেকের কম দামে গরুটি ক্রয় করতে পারতাম, কিন্তু গরুটি অসুস্থ তাই ক্রয় করিনি। পশু ক্রেতা-বিক্রেতা ফেরদৌস জানান, ঢাকা থেকে কসাই এসে গরুটি ক্রয় করে নিয়ে গিয়েছে। আমি শুধু বিক্রি করে দিয়েছি। গরুটি অসুস্থ কিনা সেটা কসাইয়ের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন। তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, আপনাদের এত প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই।

অসুস্থ গরু কিনেছি আপনাদের যা খুশি করুন। জাজিরা উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের ডাক্তার আতিকুল রহমান জানান, শুধুমাত্র পা ভেঙ্গে গিয়ে থাকলে গরুটি জবাই করে খাওয়া যেতে পারে। তবে যদি অন্য কোন রোগাক্রান্ত সহ খাদ্য বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়া খাওয়া ঠিক হবে না। গরুটি সরকারি অভিজ্ঞ চিকিৎসক দাঁড়া পরীক্ষা করে বিক্রি করলে ভালো হতো।