মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ ইং, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪৩ হিজরী
মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ ইং

জাজিরা থানার ওসি’র মহানুভবতায় মুগ্ধ দূর্ঘটনায় নিহতের পরিবার

জাজিরা থানার ওসি’র মহানুভবতায় মুগ্ধ দূর্ঘটনায় নিহতের পরিবার

মহানুভবতা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শরীয়তপুরের জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু মন্ডল। তার মহানুভবতা ও মানবিকতায় মুগ্ধ হয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক অসহায় পরিবার।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৩ মে) দুপুরের দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারী কান্দী গ্রামের গিয়াসউদ্দিন চোকদারের জামাতা বিল্লাল হোসেন শেখ।

জাজিরা উপজেলা থেকে ভ্যানে চড়ে শ্বশুর বাড়ি বিলাসপুর যাওয়ার পথে জাজিরা-বুধাইরহাট সড়কের সালাম মৃধার বাড়ির সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ভ্যানের সাথে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান দরিদ্র বিল্লাল।

বিল্লাল শেখের পৈত্রিক বাড়ি মুন্সিগঞ্জের শিরাজদিখান হলেও তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার কেরানীগঞ্জে। সেখানে একটি কারখানায় কাপড়ে প্রিন্টের কাজ করতেন এবং সেখানেই স্ত্রী ও ছোট ছোট দুটি ছেলে মেয়ে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। করোনা মহামারীর কারণে লকডাউনের সময় কাজ বন্ধ হয়ে বেকার হয়ে পড়লে নিরুপায় হয়ে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে জাজিরায় শ্বশুর বাড়ি চলে আসেন বিল্লাল শেখ। তার নিজস্ব কোন বাড়ি-ঘর ও জায়গা সম্পত্তি নেই।

বিষয়টি জানাজানির পর জাজিরা পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল হক কবিরাজ, বিলাসপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সামচুল হক বেপারী, বিলাসপুরের ইউপি সদস্য লিটন শিকদার, সাবেক মেম্বার দানেশ বেপারী সহ স্থানীয় গন্যমান্য লোকজন সালিশ বৈঠকে বসে দুই ভ্যান চালককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং জরিমানার টাকা বিল্লাল শেখের অসহায় স্ত্রী রিনা আক্তারের হাতে তুলে দেন।

এদিকে জাজিরা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করার জন্য দুই ভ্যান চালক মিলে ৮০ হাজার টাকা থানায় পাঠিয়ে দেন।

রোববার (১৫ মে) দুপুরে নিহত বিল্লাল শেখের বিধবা স্ত্রী রিনা আক্তারকে থাকায় ডেকে নিয়ে ওই ৮০ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেন জাজিরা থানার মানবিক ওসি মিন্টু মন্ডল। এসময় বিল্লাল শেখের শ্বশুর গিয়াসউদ্দিন চোকদার, ছেলে রাকিব (১১) ও মেয়ে আমেনা উপস্থিত ছিলেন। ওসি মিন্টু মন্ডলের মহানুভবতা ও মানবিকতায় উপস্থিত সকলেই মুগ্ধ হয়ে যান। টাকা পেয়ে বিল্লাল শেখের স্ত্রী রিনা আক্তার আবেগাপ্লুত হয়ে ওসির জন্য দোয়া করতে থাকেন। তিনি বলেন, এ টাকার কথা আমরা কেউ জানতাম না। ওসি সাহেব আমাদের ডেকে এনে ৮০ হাজার টাকা হাতে তুলে দিয়েছেন। এতে আমি ও আমার ছেলে-মেয়ে অনেক খুশি হয়েছি। আমরা ওসি সাহেবের জন্য দোয়া করি, সে যেন আরও বড় হতে পারেন।

রিনা আক্তার আরও বলেন, আমরা গরীব মানুষ। আমার স্বামীর বাড়ি-ঘর, জায়গা জমি কিছুই নাই। দুই ভ্যানের সংঘর্ষে স্বামী মারা যাওয়ায় ছোট ছোট দুটি ছেলে-মেয়ে নিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। মামলা মোকদ্দমা চালানোর মতো আমাদের সামর্থ নেই। তাই এলাকার মুরব্বিরা যেটা ফয়সালা করেছেন, আমরা তা মেনে নিয়েছি।


error: Content is protected !!