শনিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২২ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২২শে মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
শনিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২২ ইং

জাজিরায় জমি দখল, বাঁধা দিলে পিটিয়ে নারীসহ ৪ জন আহত

জাজিরায় জমি দখল, বাঁধা দিলে পিটিয়ে নারীসহ ৪ জন আহত

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে অবৈধ ভাবে জমি দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাঁধা দিতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় এক নারীসহ ৪ জনকে পিটিয়ে আহত প্রতিপক্ষ চাচাতো ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শীয়তপুর জেলা জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের ১০১ নং পশ্চিম নাওডোবা মৌজার আহমেদ চোকদার কান্দি গ্রামে ৭৫৫ নং খতিয়ানের, বি আর এস ৮৩৬ নং দাগে নাল ৬০ শতাংশ ভূমির মধ্যে ১৫ শতাংশ ভূমিটি র্দীঘদিন ধরে রশিদ চোকদার মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছিল। কিন্তু জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তার চাচাতো ভাই গোলাম মোহাম্মদ চোকদার গং জমিটি জোর পূর্বক দখল নিতে অশান্তি সৃষ্টি করে আসছিল। জমিটি নিয়ে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা ও দরবার হয়েছে। আব্দুর রশিদ চোকদার নিজের জমি বেহাত যাতে না হয় সে জন্য আদালতে ১৪৪ ধারা মোতাবেক নালিশী দরখাস্ত দাখিল করলে আদালত নালিশী জমিটির উপর ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু আদালতের দেয়া ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গোলাম মোহাম্মদ চোকদার গং গত ২৩ তারিখ শনিবার ভাড়াকরা সন্ত্রাসী লোক নিয়ে জমিতে দখল নিতে যায় এবং সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। জমির মালিক আব্দুর রশিদ চোকদার ও তার পরিবারের সদস্যরা বাঁধা দিতে গেলে তাদের পিটিয়ে ও কিল ঘুসি দিয়ে আহত করে। আহতরা হলেন আব্দুর রশিদ চোকদারহ (৫৪), দেলোয়ার চোকদার, (৩৭) সুমন চোকদার (২৬) ও রমেলা বেগম (৫১)।
এই বিষয়ে আব্দুর রশিদ চোকদার বলেন, এই জমিটি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলোমান। এলাকার গণ্যমান্য লোকেরা একাধিকবার দরবার শালিস করে আমার পক্ষে রায় দেন এর আপোষ মিমাংসা করে দিয়েছেন। কিন্তু গোলাম মোহাম্মদ চোকদার গংদের অনেক টাকা থাকার কারনে তারা আপোষ মিমাংসা এবং আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য করে গত ২৩ তারিখ শনিবার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে আমার জমি জোর দখল করে নিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। এতে আমরা বাঁধা দিলে আমাদের পিটিয়ে আহত করে জীবন নাশের হুমকি দেয়। আমি আমার জমি ফেরৎ পেতে আইনের কাছে ও সমাজের বিবেকবান লোকদের কাছে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছি।
এই বিষয়ে গোলাম মোহাম্মদ চোকদার এর ছেলে ফজলুল করিম বলেন, ১০১ নং নাওডোবা মৌজার বি আর এস ৭৫৫ নং খতিয়ানের ৮৩৬ নং দাগে এই জমিটি আমরা ক্রয় করি, ক্রয় সূত্রে এই জমির মালিক আমরা। নিজ জমিতে আমরা ঘর তুলে সাইন লাগিয়ে সীমানা প্রাচীর দিয়েছি। আমরা কারে জমি দখল করিনি।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক বলেন, আমি বিষয়টা জানতে পেরে ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠাই, কিন্তু পুলিশ ঘটনার সাথে জরিত কাউকে খুঁজে পায়নি। আমি পরস্পর শুনেছি বিরোধকৃত জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এই বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।


error: Content is protected !!