শুক্রবার, ১২ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
শুক্রবার, ১২ই আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুর স্পীডবোটে মাছ শিকার, দুই জেলের লাশ উদ্ধার

শরীয়তপুর স্পীডবোটে মাছ শিকার, দুই জেলের লাশ উদ্ধার

শরীয়তপুরের জাজিরায় পালেরচর এলাকার পদ্মা নদী থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্পীডবোটে করে মাছ শিকারের সময় মঙ্গলবার রাতে দুই বোটে সংঘর্ষে জেলে ইলিয়াছ মোল্যা(৩৫) ও আব্দুল খালেক (৫০) নিখোঁজ হন।

ইলিয়াছ মোল্যা নাওডোবা নকরি মাদবরকান্দি গ্রামের শুকুর মোল্যার ছেলে আর খালেক পাশের পৈলান মোল্যার কান্দি গ্রামের ওহাব চোকদারের ছেলে।

জাজিরা থানা ও জেলেদের পরিবার সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে পৈলান মোল্যার কান্দি গ্রামের হারুন খানের ও মালেক খানের স্পীডবোটে করে কয়েক জন জেলে পদ্মা নদীতে মাছ শিকারে যায়। রাত ১১টার দিকে পূর্ব নাওডোবা এলাকায় পদ্মা নদীতে বোট দুটি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তখন বোটে থাকা ১৬ জন জেলে পানিতে পরে যায়। ১৪ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ইলিয়াছ ও খালেক নিখোঁজ হন। তাদের নিখোঁজ থাকার বিষয়ে ইলিয়াছ মোল্যার চাচা মোতাহার মোল্যা জাজিরা থানায় বুধবার একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পালেরচর এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে মানুষের দেহ পরে থাকার খবর পেয়ে ইলিয়াছের পরিবার ছুটে যায়। তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ইলিয়াছের বাবা শুকুর মোল্যা বলেন, আমার ছেলে মাছ শিকার করে না। কিন্তু হারুন খান লোভ দেখিয়ে তার স্পীডবোটে মাছ শিকারের জন্য রাতে পদ্মায় নিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরও তাদের খোঁজেনি। ছেলেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করার মতো অপরাধ করেছে। আমি তাদের বিচার চাই।

শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে দ্রুতগতির নৌযান স্পীডবোট ব্যবহার করে ইলিশ মাছ শিকার করা হচ্ছে। এক শ্রণির প্রভাবশালী ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেদের ভাড়ায় নিয়ে স্পীডবোট দিয়ে মাছ শিকার করাচ্ছেন। আবার কিছু জেলে স্পীডবোট ভাড়া নিয়ে মাছ শিকার করছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চলছে ইলিশের প্রজনন মৌসুম, এ মৌসুমে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য নোনা পানি থেকে মিটা পানি আসছে। এ কারণে সরকার গত ৭ অক্টোবর হতে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলা নিষিদ্ধ করেছে। এ সময় ইলিশ শিকার, পরিবহন, বিপনন ও মজুদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু জেলেরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে মাছ শিকার করছেন।

এ বছর এক শ্রেনীর প্রভাবশালি ব্যক্তি ও কিছু জেলে দ্রুতগতির নৌযান স্পীডবোট ব্যবহার করে ইলিশ শিকার করছেন। ওই চক্রটি জাজিরার পাইনপারা হতে নড়িয়ার সুরেশ্বর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ শিকার করছেন। গত চার দিনে মৎস বিভাগ পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১১টি স্পীডবোট জব্দ করেছে।

জাজিরা থানার উপপরিদর্শক মো.ইকবাল হোসেন বলেন, রাতের আধারে মাছ শিকার করার সময় স্পীডবোট দুর্ঘটনায় দুই জেলে নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার পদ্মা নদীর চর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একটি জিডি হয়েছে, যদি মামলা হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


error: Content is protected !!