বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং

জাজিরায় মৎস্য অভিযানের ট্রলারে পাথর নিক্ষেপ

জাজিরায় মৎস্য অভিযানের ট্রলারে পাথর নিক্ষেপ

সোমবার রাতে জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পুলিশসহ ১৬জন লোক নিয়ে ট্রলারযোগে মৎস্য অভিযানে বের হন। জাজিরার এড়িয়ার পদ্মা নদীর কাইজ্জারচর ও বাবুরচরের মাঝামাঝি গেলে দুইটি স্প্রিডবোট তাদের ট্রলার লক্ষ করে পাথর নিক্ষেপ করেন। পাথরের আঘাতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জল কুমার রায় (৩৩), ক্ষেত্র সহকারী সুজন কুমার সুত্র ধর (২৮), এসকান্দার আলী (৫৮) নাম পাওয়া গেছে।
জাজিরা উপজেলা মৎস্য অফিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সরকার গত ৭ অক্টোবর হতে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলা নিষিদ্ধ করেছে। এ সময় ইলিশ শিকার, পরিবহন, বিপনন ও মজুদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু জেলেরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে মাছ শিকার করছেন। তাই শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার মত গত ৭ অক্টোবর থেকে জাজিরা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অফিস, পুলিশ মৎস্য অভিযান পরিচালনা করছেন।
তারই ধারবাহিকতায় গতকাল সোমবার রাতে জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাজিরা থানা পুলিশের একটি দল নিয়ে ট্রলার যোগে জাজিরার এড়িয়ার পদ্মা নদীর কাইজ্জারচর ও বাবুরচর এলাকায় যায়। তখন দুইটি স্প্রিডবোট মৎস্য কর্মকর্তার ট্রলার লক্ষ করে পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। পাথরের আঘাতে মৎস্য কর্মকর্তাসহ কয়েজন আহত হন। আহত অবস্থায় তারা ট্রলার নিয়ে তীরে চলে আসেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে জানিয়েছেন জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জল কুমার রায়।
জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জল কুমার রায় বলেন, গতকাল রাত ৮টার দিকে একটি বড় ট্রলার নিয়ে পুলিশসহ আমরা ১৬ জন মৎস্য অভিযানে বের হই। জাজিরার এড়িয়ার পদ্মা নদীর কাইজ্জারচর ও বাবুরচরের মাঝামাঝি গেলে দুইটি স্প্রিডবোট আমাদের ট্রলার লক্ষ করে পাথর মারতে থাকে তখন আমরা কয়েকজন আহত হই। তবে হামলাকারীদের কাউকে চিনতে পারিনি।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুরেও অভিযানে গেলে আমাদের লক্ষ করে হামলা চালায় জেলেরা। তখন রাসেল (১৮) নামে একজনকে আটক করেন পুলিশ। রাসেলের বাড়ি ভোলা জেলায়।
জাজিরা থানার এসআই সমেন্দ্র নাথ বিশ^াস বলেন, গতকাল মৎস্য কর্মকর্তার সাথে আমরা ৫জন পুলিশ সদস্য অভিযানে যাই। তখন আমাদের লক্ষ্য করে দুইটি স্প্রিডবোট থেকে ঢিল ছোড়ে। পরে ফিরে আসি।
জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলায়েত হোসেন বলেন, অভিযানে গিয়ে কোন পুলিশ সদস্য আহত হননি। এ ব্যাপারে এখনো থানায় মামলা হয়নি।
জাজিরা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, হামলার ব্যাপারে ওসির সাথে কথা হয়েছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে আজ একজনকে আটক করা হয়েছে।


error: Content is protected !!