বৃহস্পতিবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং

নড়িয়ার ভোজেশ্বরে চান্দনী খালের উপর নিজস্ব অর্থায়নে বাশের পুল নির্মাণ

নড়িয়ার ভোজেশ্বরে চান্দনী খালের উপর নিজস্ব অর্থায়নে বাশের পুল নির্মাণ

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের ৫নং ও ৬নং ওয়ার্ড সীমান্তে কীর্তিনাশা নদীরপাড় সংলগ্ন চান্দনী খালের উপর জনগণের প্রত্যাশিত বাশের পুল নির্মাণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ভোজেশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ শিকদারের সুযোগ্য সন্তান শহীদুল ইসলাম সিকদার। তিনি উক্ত খালখনন শেষে ঐ খালের উপরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু আজও পর্যন্ত উক্ত খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ হয়নি ও ব্রিজ নির্মাণের বাজেটও সরকার করেনি। অবশেষে ভোজেশ্বর ইউনিয়নের ৫নং ও ৬নং ওয়ার্ড ও জপসা ইউনিয়নের ৪-৫ হাজার জনগণের সাময়িক প্রত্যাশা পূরণকল্পে বাশের পুল করার সিদ্ধান্ত নেন শহীদুল ইসলাম সিকদার। গত ২২ এপ্রিল নড়িয়া থানা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় নিজস্ব অর্থায়নে ৩০-৪০ ফুট একটি পুল নির্মাণ করেন।
এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সাড়া না পেয়ে জনগণের চলাচল সুবিধা নিশ্চিত করতে নিজের সাকুল্য অর্থায়নে এলাকাবাসী কে নিয়ে শহীদুল ইসলাম সিকদার বাশের পুল নির্মাণ কাজ শেষ করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, নিজস্ব অর্থায়নে বাশের পুল নির্মাণে তার কোনো কৃতিত্ব দেখানোর জন্য নয়, এখানে পুল নির্মাণের দাবি তার এলাকার জনগণের বহুদিনের। কিন্তু সরকারি অর্থায়নে এখানে ব্রিজ নির্মাণের কোনো উদ্যোগ না থাকায় শেষমেষ কারো কাছ থেকে কোনো প্রকার অর্থনেতিক সহায়তা না নিয়ে নিজেই এর ব্যয় বহন করে ব্রিজ নির্মাণে এগিয়ে আসেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি চ্যালেঞ্জিং উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মাত্র।
এ বিষয়ে শহীদুল ইসলাম সিকদার বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবজ্ঞা, অনীহা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা অপেক্ষা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে এ পুলটির কাজ শেষ করেছি। কিন্তু এখানে ব্রিজ হওয়া জরুরি। এ ব্রিজটি করার কাজে তিনি প্রয়োজনে উর্ধ্বতন জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের সহযোগিতাও কামনা করেছেন।
সরজমিন গিয়ে জানা গেছে, গ্রামের মানুষের জেলা ও উপজেলার হাসপাতাল, হাঁট বাঁজারে প্রতিদিন যেতে দুই-তিন কিলোমিটার ঘুরে যেতে হতো। এখন এ বাশের সাকোটি হওয়ায় তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। এটাই ছিল গ্রামবাসীর বাজার কিংবা স্কুলে আসার সহজ রাস্তা।
তবে এলাকার জনগণ জানিয়েছে, এ খালের উপর ব্রিজ না থাকায় আপাতত শহীদুল ইসলাম সিকদারের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এ বাঁশের সাঁকো দিয়েই ঝুঁকিপূর্ণভাবেই এখানকার অন্তত ৫-৬ নং ওয়ার্ডের কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হবে। তারা আরও বলেন, শহীদুল সিকদার নিজের অর্থায়নে এখানে বাশের পুল নির্মাণ করে তাদের চিরঋণী করে দিয়েছেন। তারা তার এমন মহৎ উদ্যোগের কথা কখনোই ভুলবেনা।


error: Content is protected !!