বৃহস্পতিবার, ৬ই মে, ২০২১ ইং, ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে রমজান, ১৪৪২ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৬ই মে, ২০২১ ইং

নড়িয়ায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বৃদ্ধের ক্ষ্যাপাটে আচরণ, আতংকে মহিলারা

নড়িয়ায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বৃদ্ধের ক্ষ্যাপাটে আচরণ, আতংকে মহিলারা

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এক বৃদ্ধ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্ষ্যাপাটে আচরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে আতংকের মধ্যে দিন কাটছে প্রতিপক্ষ বাড়ির মহিলা ও শিশুরা। বেশ কিছুদিন যাবত বৃদ্ধ এ ধরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। থানা পুলিশ ও এলাকার লোকজন তাকে নিবৃত্ত করতে পারছেন। সে প্রতিপক্ষের উপর আক্রমন করার জন্য রামদা নিয়ে পথের মধ্যে দাড়িয়ে থাকেন এবং তাদের দিকে ক্ষনে ক্ষনে তেড়ে যাচ্ছেন। এতে বাড়ির মহিলা ও শিশুদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটছে উপজেলার ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের সাতপাড় গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের সাতপাড় গ্রামের মৃত কালাই খন্দকারের ছেলে মো: চুন্নু খন্দকারের সাথে প্রতিবেশী মৃত আ: জাব্বার কাজীর ছেলে সেলিম কাজী ও তার ভাইদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে।

গত ২৩ এপ্রিল শুক্রবার চুন্নু খন্দকার কিছু ভারাটে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হালিম অরফে সেলিম কাজী গং ও নিভলু বেপারী গংদের জমির মাটি কেটে নেয় নিয়ে যায় এবং সেলিম কাজীর জমির পাইলিং ভেঙ্গে ফেলে ও গাছপালা কটে ফেলে। সেলিম কাজীর পরিবার বাধা দিতে গেলে চুন্নু খন্দকার ও তার ভারাটে সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্র রামদা, টেটা ও লাঠিসোডা নিয়ে সেলিম কাজীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় সেলিম কাজীর বাড়ির পুরুষ লোক বাড়িতে না থাকায় বাড়ির মহিলা ও শিশুরা আতংকে ঘরবদ্ধ করে প্রাণ বাচান। পরে কোন উপায়ন্ত না পেয়ে সেলিম কাজীর পরিবার নড়িয়া থানা পুলিশের শরনাপন্ন হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

এ ব্যাপারে সেলিম কাজী বলেন, আমরা প্রায় ২০০ বছর যাবৎ সাতপাড় ও ফতেজঙ্গপুর মৌজায় এসএ ৯১ নং খতিয়ানে ৬৬ ও ৬৭নং দাগে ১১১ শতাংশ জমি ভোগ করি। কিন্তু হঠাৎ করে মো: চুন্নু খন্দকার ও তার ভারাটে সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের মৌজার সীমানার মাটি কেটে ফেলে এবং আমাদের বালি মাটি ভরাটকৃত জায়গার পাইলিং ভেঙ্গে ফেলে। এতে আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের দেশীয় অস্ত্র ছেনদা, টেটা ও লাঠিসোডা নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায় এবল আমাদের হত্যার হুমকি দেয় মো: চুন্নু খন্দকার ও তার ভারাটে সন্ত্রাসী বাহিনী। আমরা কোন উপায়ন্ত না পেয়ে আইনের শরনাপন্ন হয়েছি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে এ বিষয়ে অবগত করেছি। তারা এ বিষয়ে দেখবে বলেছে। কিন্তু চুন্নু খন্দকার আইন এবং সালিশদের কোন তোয়াক্কাই করছে না। সালিশ হিসেবে যারাই আসে তাদেরকে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এ বিষয়ে সঠিক সঠিক বিচার দাবি করছি।

সেলিম কাজীর মা হালিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী মৃত আ: জাব্বার কাজী এ জমির মালিক। তার ওরারিশসূত্রে আমার ৫ ছেলে সেলিম কাজি, স্বপন কাজি, আ: সাত্তার কাজি, সেতু কাজি ও বরকত কাজি এ জমির মালিক। সেলিম কাজি কাজির ব্যবসা করে আর সবাই বিদেশ থাকে। আমরা বউ ঝি নিয়ে বাড়িতে মহিলারা থাকি। চুন্নু খন্দকার লোকজন ও ছেনদা নিয়ে আমাদের মারার জন্য কিছুক্ষন পরপর তেড়ে আসে। তার এমন আচরণে আমরা বাড়ির মহিলারা আতংকের মধ্যে থাকি।

সে কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে আমাদের জমির মাটি কেটে নেয় ও আমাদের পাইলিং ভেঙ্গে ফেলে। আমরা বলতে গেলে, আমাদের ছেনদা ও টেটা নিয়ে চুন্নু খন্দকার ধাওয়া দেয়। আমরা ভয়ে বাড়ির ভেতরে চলে যাই। এখন আমরা সবসময় ৫ ছেলের বউদের ইজ্জত নিয়ে খুব ভয়ের ভিতরে আছি। এজন্য আইনের সহযোগিতা চাই।

নিভলু বেপারীর স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, চুন্নু খন্দকার আমাদের পুকুরের মাটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক কাটতে আসে। আমরা পুলিশ নিয়ে বাধা দিলে পরে চলে যায়। এর পূর্বে সেলিম কাজীদের মাটি কেটেছে। এ লোকটা শুধু মানুষের সাথে শুধুশুধু ঝগড়া সৃষ্টি করতে চায়। সে মুক্তিযোদ্ধা নামের কলঙ্ক।

নিভলু বেপারীর মেয়ে বলেন, চুন্নু খন্দকারের কোন কাগজপত্র নেই। সে শুধু সবার সাথে ঝামেলা করে। সে শুধু আমাদের সাথে না জাব্বার কাজি, সেলিম কাজি ও আশেপাশের সবার সাথেই চুন্নু খন্দকার ঝামেলা করছে।

এ বিষয়ে চুন্নু খন্দকার বলেন, আমি আরো জমির মাটি কাটি নাই বা কারো পাইলিংও ভাঙ্গিনাই। আমি আমার জমি থেকে মাটি কেটেছি। সেলিম কাজীরা আমার সাথে ঝামেলা করছে। আমি ছেনদা দিয়ে আমার জমির আগাছা পরিষ্কার করছি। সেলিম কাজীর লোকজন সেই ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে বলছে আমি নাকি তাদেরকে মারতে গেছি। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। আমি এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে স্থায়ীয় ইউপি সদস্য রিপন বেপারী বলেন, তাদের মধ্যে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব নিরসণ করার জন্য আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা চুন্নু খন্দকারের বাড়িতে গিয়েছিম। তখন চুন্নু কাজী ঈদের পরে এ বিষয়ে মিমাংসায় বসবে বলেন। তখন আমরা চলে যাই। পরে শুনি চুন্নু খন্দকার লোকজন নিয়ে সেলিম কাজীর পাইলিং ভেঙ্গে ফেলেছে এবং মাটি ও গাছপালা কেটে নিয়ে গেছে। এটা সে ঠিক করেনি।

নড়িয়া থানার এসআই বিশ্বজিৎ বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে বলেছি এবং স্থানীয় মেম্বার ও এলাকার মুরব্বীদের বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।