সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং

মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় নড়িয়ায় ষাটোর্ধ ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ

মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় নড়িয়ায় ষাটোর্ধ ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা কাটাকাটির জেরে আ: খালেক হাওলাদার(৬০) নামে একজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২১ মে) সন্ধা সাড়ে ৭ টার দিকে চামটা ইউনিয়নের গোলারবাজার সংলগ্ন পূর্ব তেলীপাড়া গ্রামের হাওলাদার বাড়ির সামনে এ মারধরের ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগটি ওঠে নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের একই এলাকার কাশেম হাওলাদারের ছেলে দুলাল হাওলাদার(৪০), রুবেল হাওলাদার(৩৫) ও রুবেল হাওলাদারের স্ত্রী শাহানা বেগম(৩০) এর বিরুদ্ধে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রমতে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ কাশেম হাওলাদারের ছেলে দুলাল হাওলাদার ও রুবেল হাওলাদার গাজা ও বিভিন্ন মাদকের নেশার সাথে জড়িত। এ নেশায় আসক্ত হয়ে বিভিন্নভাবে তাদের নিকটতম প্রতিবেশী আ: খালেক হাওলাদার ও তার পরিবারকে জ্বালাতন ও গালিগালাজ করতে থাকে। জানা যায়, গাজার ধোয়ার গন্ধ আ: খালেক হাওলাদারের ঘরে প্রবেশ করলে তাদের পরিবারের উক্ত গাজার দূর্গন্ধে অনেক সমস্যা হয়।

এ গাজার দূর্গন্ধের বিষয়ে স্থানীয় সালিশ হাজী আব্দুল মান্নান হাওলাদার, বীরমুক্তিযোদ্ধা কাশেম দেওয়ান ও নুরুল ইসলাম হাওলাদারকে অবগত করতে গেলে দুলাল হাওলাদার, রুবেল হাওলাদার ও রুবেল হাওলাদারের স্ত্রী শাহানা বেগমসহ অজ্ঞাত কয়েকজন মিলে আ: খালেক হাওলাদারকে মেরে ফেলার পায়তারায় দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে এলোপাথাড়ি মারপিট করলে আ: খালেক হাওলাদার মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এছাড়া মারপিট ছাড়াতে গিয়ে হালান হাওলাদারসহ কয়েকজন আহত হয়। তারা স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। পরে স্থানীয় ও আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আ: খালেক হাওলাদারকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে আ: খালেক হাওলাদারের স্ত্রী মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। নড়িয়া থানা ওসি অবনী শংকর কর বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্তের জন্য এসআই নাজিমকে সরেজমিনে পাঠায়।

এ বিষয়ে আ: খালেক হাওলাদারের স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, সারা রমজান মাস দুলাল হাওলাদার, রুবেল হাওলাদারদের গাজার দূর্গন্ধ ও বিভিন্ন গালিগালাজ সহ্য করেছি। পরে আমার স্বামীকে মাদকের বিষয়ে সালিশদের নিকট অবগত করতে বলেছি। কিন্তু সালিশদের নিকট গাজার দূর্গন্ধের বিষয়ে অবগত করলে দুলাল হাওলাদার, রুবেল হাওলাদার ও রুবেল হাওলাদারের স্ত্রী শাহানা বেগমসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে নিয়ে আমার স্বামী আ: খালেক হাওলাদারকে মেরে ফেলার পায়তারায় এলোপাথাড়ি মারপিট করে। সে এখন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।

দুলাল হাওলাদার ও রুবেল হাওলাদারকে বাড়িতে পাওয়া না গেলে তাদের বাবা কাশেম হাওলাদারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, দশবছর পূর্বে আমার ছেলেদের গাজার নেশা ছিল। এখন আর নেই। এ অভিযোগটি ষড়যন্ত্র। এ বাড়িতে আমাদের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে।

স্থানীয় সালিশ হাজী আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, কাশেম হাওলাদারদের ছেলেদের মাদকের দূর্ণাম আছে। এজন্য তাদের পুলিশে একাধিক বার ধরে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের অনুরোধে পুলিশ তাদের ক্ষমা করেছে। আ: খালেক হাওলাদার এ বিষয়ে আমাদের নিকট বলতে আসলে দুলাল হাওলাদার ও রুবেল হাওলাদার আ: খালেককে মারপিট করে ও মাটিতে ফেলে দেয়। এতে আ: খালেক গুরুতর আহত হয়। সে এখন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি।

নড়িয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবনী শংকর কর বলেন, মাদকের ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তদন্তে এসআই নাজিমকে পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।