Thursday 30th May 2024
Thursday 30th May 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

পিএসিই প্রকল্পের আওতায় নুসা’র ভ্যালুচেইন উন্নয়ন কার্যাক্রমের ফলে দেশী গাভী পালনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরী হয়েছে

পিএসিই প্রকল্পের আওতায় নুসা’র ভ্যালুচেইন উন্নয়ন কার্যাক্রমের ফলে দেশী গাভী পালনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরী হয়েছে

Notice: Trying to access array offset on value of type bool in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/plugins/bj-lazy-load/inc/class-bjll.php on line 208

Notice: Trying to access array offset on value of type bool in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/plugins/bj-lazy-load/inc/class-bjll.php on line 208

পিএসিই প্রকল্পের আওতায় নুসা’র ভ্যালুচেইন উন্নয়ন কার্যাক্রমের ফলে নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলায় দেশী গাভী পালনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরী হয়েছে।
প্রকল্পের নাম পদ্মা পাড়ে গাভী পালনের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধিকরণ ও কর্মস্থান সৃষ্টি শীর্ষক ভ্যালুচেইন উন্নয়ন প্রকল্প।
প্রকল্পের লক্ষ্য হল- বাণিজ্যিক ভাবে দেশি জাতের গাভী পালন, দুধ ও বাচ্চার উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজারজাত করণের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আয় বাড়ানো ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করা।
প্রকল্পের উদেশ্য, উদ্যোক্তাদের উন্নত পদ্ধতিতে গাভী পালনের মাধ্যমে দুধের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা, উদ্যোক্তাদের উন্নত পদ্ধতিতে গাভী পালন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই ভাবে গাভীর সার্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও মৃত্যুহার কমিয়ে আনা এবং গাভীর প্রথম পালদেয়ার বয়স এবং বাচ্চা প্রসবের পর হতে পরবর্তী পাল দেওয়ার সময় কমিয়ে আনা।
প্রকল্পের মেয়াদ ৩ বছর (মার্চ ২০১৭ থেকে ফেব্রুয়ারী ২০২০), দাতা সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), কর্ম এলাকা শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া, জাজিরা এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলা এবং শাখার সংখ্যা ৬টি (নড়িয়া শাখা, ঘড়িষার, কার্কিকপুর, জাজিরা, কাজির হাট, সখিপুর শাখা)
নুসা’র ভ্যালুচেইন কার্যক্রমের বিবরণ- উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, এ যাবৎ নুসার ছয়টি শাখায় সর্বমোট ২ হাজার ৫শ জন উদ্যোক্তাকে “আধুনিক পদ্ধতিতে গাভী পালন ও রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে পূর্ব শতর্কীকরণ ও করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণ প্রদানের ফলে উদ্যোক্তারা গাভীর রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে পূর্বেরচেয়ে বেশি সচেতন হয়েছে। গাভী/গবাদী পশুকে সময়মত বিভিন্ন টিকা প্রদান করছে এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর কৃমির ঔষধ সেবন করছে। গাভী/গবাদী পশুকে নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করার ফলে গাভী/গবাধীপশু সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে উঠছে। বিশেষ করে গাভীর স্বাস্থ্যের উন্নতি হওয়ায় পুর্বের চেয়ে বেশি দুধ উৎপাদন হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়। উদ্যোক্তাতারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নত পদ্ধতিতে গাভী পালন ও গাভীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পূর্বের চেয়ে সচেতন হয়েছে যার ফলে স্বাস্থ্য ঝুকি এবং মৃত্যুহার কমিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গাভীর/গবাদি পশুর চিকিৎসা- কর্ম এলাকায় গবাদি পশুর চিকিৎসা সেবায় উদ্যোক্তাদের অভ্যস্ত করার জন্য খোলা মাঠে শাখা ভিক্তিক ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প করে বিভিন্ন রোগের টিকা প্রদান ও কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানো হয়, ফলে নুসা’র তালিকাভুক্ত উদ্যোক্তা যারা প্রশিক্ষণ পেয়েছে তারা এবং যারা নুসা’র উদ্যোক্তা সদস্য নয় ও প্রশিক্ষণ পায়নি তারাও গবাদি পশুকে নির্দৃষ্ট সময় অন্তর ভ্যাকসিন প্রদান ও কৃমিনাশক ঔষধ সেবন করছে। এ যাবৎ কর্ম এলাকার বিভিন্ন স্থানে সকলের জন্য উন্মোক্ত ১৫ টি ফ্রি ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প করা হয়। ১৫ টি ক্যাম্প থেকে প্রায় ৫ হাজার গরুকে (গাভী, বাছুর ও ষাড়) টিকা ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট প্রদান করা হয়। এখানে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প করার ফলে উদ্যোক্তারা বর্তমানে গবাদি পশুকে রোগ মুক্ত রাখতে নিয়মিত টিকা ও কৃমিনাশক ঔষধ প্রদান করছে। পূর্বে অনেক খামারী গাভীকে নিয়মিত টিকা ও কৃমিনাশক ঔষধ প্রদান করাতোনা।
গাভীর/গবাদি পশুর বাসস্থান- গাভী/ গবাদি পশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান জরুরী তাই সকল খামারীদের মডেল খামার তৈরীর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় এবং সকল খামারীদেরকে মডেল খামার স্থাপনে উৎসাহ প্রদান করতে ৩৬ জন উদ্যোক্তাকে প্রকল্প ব্যায়ে ৩৬টি মডেল খামার তৈরী করে দেওয়া হয়েছে। এসব মডেল খামারের আদলে সকল উদ্যোক্তারা মডেল খামার তৈরী করার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠছে। অনেক খামারী গাভী পালনের জন্য স্বাস্থ্য সম্মত বাসস্থান বা মডেল খামার তৈরীর অভিজ্ঞতা ছিল না যাহা বর্তমানে অনেকেই তৈরী করছে।
উন্নত জাতের ঘাস চাষ- গাবাদি পশু বিশেষ করে গাভীকে বিভিন্ন খাবারের পাশাপাশি কাঁচাঘাস খাওয়ানো স্বাস্থ্যসম্মত বিধায় উন্নত জাতের ঘাষচাষ করা খামারীদের জন্য জরুরি কারণ প্রাকৃতিক ভাবে ঘাষ উৎপন্ন হলেও তা এলাকার গবাদি পশুর জন্য যথেষ্ট ও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তাই উন্নত জাতের পুষ্টিকর ঘাস চাষ করার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে খামারীদের মাঝে উন্নতজাতের ঘাস চাষ পদ্ধতি এবং তা প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা খামারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এবং ব্যাপকভাবে ঘাস চাষে উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে ৪৮ জন উদ্যোক্তা খামারীদের মধ্যে উন্নতজাতের নেপিয়ার ঘাসের কাটিং বিতরণ করা হয়। যারা ঘাসের কাটিং পেয়েছেন বাড়ির আসপাশে কাটিং রোপন করে অধিক ঘাস উৎপাদনের সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরী করেছেন এবং তাদের অনুস্বরণ করে অন্যরাও কাটিং রোপন করে ঘাস উৎপাদন বৃদ্ধি করে কাচা ঘাসের চাহিদা মিটানো এবং বাণিজ্যিকভাবে অনেকেই ঘাস বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করছে।
স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ- প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খামারিদের মধ্যে গাভী পালন, প্রজনন, টিকা প্রদান ও স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য সংরক্ষণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। গাভীকে টিকা, কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানোর পর কার্ডে তারিখ লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তী টিকা ও কৃমির ট্যাবলেট যথাসময়ে প্রদান করতে ও খাওয়াতে কার্ডে লিপিবদ্ধ তারিখ সহায়ক হিসেবেকাজ করে।

পদ্মা পাড়ে নুসা’র আয়োজনে গাভী পালনের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধিকরণ ও কর্মস্থান সৃষ্টি শীর্ষক ভ্যালুচেইন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গরুকে ভ্যাকসিন ও কৃমিনাশক ঔষধ দেয়া হচ্ছে। ছবি- দৈনিক রুদ্রবার্তা

খামারীদের মাঝে বাৎষরিক ক্যালেন্ডার বিতরণ- গাভী/গবাদি পশু রোগব্যাধি সম্পর্কে পূর্ব সতর্কীকরণ এবং করণীয় সম্পর্কে খামারীদের সচেতন করতে গাভী/গবাদিপশু রোগ-ব্যাধি বিষয়ক বাৎষরিক ক্যালেন্ডার তৈরী করে খামারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। যা কর্মএলাকায় খামারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করছে। পূর্বে কোন মাসে কি রোগ হতে পারে বা কোন মাসে কি টিকা প্রদান করতে হয় তাহা জানা ছিল না। বাৎষরিক ক্যালেন্ডর তৈরীর ফলে মাস ভিক্তিক রোগ সম্পর্কে জানতে পারছে এবং সে মোতাবেক টিকা প্রদান করতে পারছে।
এছাড়া দেশী গাভী পালনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা এবং গাভীরবাসস্থান ব্যবস্থাপনা সর্ম্পকিত বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করে কর্মএলাকায় খামারীদের, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে ফলে দেশী গাভী পালন এবং পরিচর্যা করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবে।
গাভী/গবাদি পশুকে আধুনিক পদ্ধতিতে লালন পালন এবং সময়মত চিকিৎসা প্রদানসহ খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে দেশী গাভী পালন করতে উদ্ভুদ্ধ করায় কর্মএলাকায় দেশী গাভী পালন করার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এবং গাভীর স্বাস্থ্যঝুকি কম এবং মৃত্যুঝুকি হ্রাস পেয়েছে। ফলে দেশী গাভী হতে পূর্বের তুলনায় বেশি দুধ উৎপাদিত হচ্ছে একই সাথে গাভীর স্বাস্থ্য ভাল থাকায় গাভীর প্রথম পাল দেওয়ার বয়স এবং বাচ্চা প্রসবের পরবর্তী পাল দেওয়ার সময় কমে আসবে। তবে আগামী দু’বছরের মধ্যে প্রকল্পের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি। নুসা’র ভ্যালুচেইন প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে শরীয়তপুর জেলার তিনটি উপজেলার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ৩০ হাজার খামারী আধুনিক পদ্ধতিতে দেশি গাভী পালনে অভ্যস্থ হবে।

পদ্মা পাড়ে নুসা’র আয়োজনে গাভী পালনের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধিকরণ ও কর্মস্থান সৃষ্টি শীর্ষক ভ্যালুচেইন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গাভী পালন সদস্যদের মধ্যে উন্নত জাতের ঘাসের কাটিং বিতরণ করা হচ্ছে। ছবি- দৈনিক রুদ্রবার্তা