বৃহস্পতিবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং

নড়িয়ার নতুন ইটভাটা নির্মাণ করায় হুমকির মুখে পরিবেশ

নড়িয়ার নতুন ইটভাটা নির্মাণ করায় হুমকির মুখে পরিবেশ

নড়িয়া উপজেলার কানারগাঁও গ্রামে প্রায় আট একর ফসলি জমি ধ্বংস ও বসত বাড়ি উচ্ছেদ করে বিসমিল্লাহ ব্রিক নামে একটা ইট ভাটা নির্মাণ হচ্ছে। এ ইট ভাটার কার্যক্রম ও ইট পোড়ানো শুরু হলেই পরিবেশ ও জনজীবন বিপন্ন হবে বলে আশঙ্কা করছে গ্রামবাসী।
সরে জমিন গিয়ে দেখা গেছে, বিসমিল্লাহ ব্রিকস নামে নড়িয়া উপজেলার ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের কানারগাঁও গ্রামে যে ইট ভাটা নির্মাণ হচ্ছে তার তিনদিকে এবং অতি নিকটে রয়েছে প্রায় শতাধিক বসত বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ। নির্মাণাধিন ইট ভাটার চুলার ৫ গজের মধ্যে রয়েছে বসত বাড়ি। ওই সকল বাড়িতে শিশু-বৃদ্ধ সহ সকল বয়সী মানুষের বসবাস। আসপাশের ফসলি জমি ও গাছপালার উপর পরবে ইট ভাটার ক্ষতিকর প্রভাব। এমনি ভাবে প্রাকৃতিক ও সামাজিক বনায়ন, ফসলি জমি ও মানুষের বসবাস যোগ্য পরিবেশে ইট ভাটা নির্মাণ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ইট ভাটা আইনের পরিপন্থি।
স্থানীয়দের সাথে আলাপ কালে জানায়, ইট ভাটা জন বসতি এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে। ইট পোড়ানোর চুলার ৫ গজের মধ্যে রয়েছে অনেকের বসত বাড়ি। ইট ভাটা মালিক পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে ভাটা নির্মাণ করছে। আমাদের কথার কোন গুরুত্ব নাই ভাটা মালিকদের কাছে।
৯১ নং কানারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানার সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে ইট ভাটা নির্মাণ হলে বিভিন্ন প্রকার সমস্যার সম্মুখিন হতে হব। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে সড়কে যাতায়ত করে সেই সড়কে ট্রাক, মাহেন্দ্র, নছিমন, ভটভটি চলাচল করলে দ্রুত সড়ক নষ্ট হবে। শিক্ষার্থীরা দূর্ঘটার সম্মুখিন হবে। ইট ভাটার কালো ধূয়ায় পরিবেশ নষ্ট হবে।
নড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকন উজ্জামান বলেন, ইট ভাটার মালিক পক্ষ আমার কাছে অনাপত্তি প্রত্যয়নপত্র পাওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেছে। সরেজমিন পরিদর্শণ করে দেখিছি কানারগাঁও মৌজার সকল জমি ২ ও ৩ ফসলি। ফসলি জমিতে ইট ভাটা নির্মান সরকারি বিধি মোতাকে নিষেধ। তাই কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে অনাপত্তি প্রত্যয়ন পত্র দেয়া হয়নি।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, ফসলি জমি ও আবাসিক এলাকায় ইটের ভাটা নির্মাণ করা যাবে না। আমার কাছে অভিযোগ আসছে। বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শণ করব।
জানা যায়, বিছমিল্লাহ ইট ভাটার মালিক পক্ষ মুনছুর ছৈয়াল, রানা খান, ইমান মুন্সী, ছালাম মুন্সী, মিলন বন্দুকছি প্রমূখ। মালিক পক্ষের মুনছুর ছৈয়ালের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ইট ভাটা নির্মাণে যে সকল কাগজপত্র লাগে তার সকল কিছুই আমার কাছে আছে। অবৈধ ভাবে আমরা ইট ভাটা নির্মাণ করব না।


error: Content is protected !!