শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় হামলা ভাংচুর, আহত ৬

শরীয়তপুরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় হামলা ভাংচুর, আহত ৬

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় নবম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় তিন বখাটে ওড়না টেনে, কুপ্রস্তাব দিয়ে ইভটিজিং করে। ছাত্রীর পরিবার প্রতিবাদ করলে বখাটেরা তাদের উপর হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। পরে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে দু’পক্ষের ৬জন আহত হয়। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নড়িয়া থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে।
পুলিশ, ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পন্ডিতসার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ইমা আক্তার (১৪) ও আল্পনা আক্তার (১৫) গত বুধবার বিকেলে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে সালধ ব্রীজের উপরে পথ আটকে দেয় ভূমখাড়া ইউনিয়নের পাটদল গ্রামের বখাটে মো. আলী মাঝির ছেলে নাঈম মাঝি (১৮), ইচাহাক হাওলাদারের ছেলে শাওন হাওলাদার (২২) ও মকসুদ আলীর ছেলে দ্বীন ইসলাম (২২)।
এসময় তিন বখাটে ইমা ও আল্পনাকে কু-প্রস্তাব দেয় এবং দাঁড়াতে বলে। বখাটেদের কথা না শুনলে ইমার ওড়না ধরে টান দেয়। বিষয়টি ইতালী প্রবাসী হানিফ ঢালী, সুজন সরদার, আলমাছ ও জামাল দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ জানায়। তখন ইমা ও আল্পনা বাড়ি ফিরে যায়। বখাটেরা ওইদিন রাতে ২০০/২৫০ জন লোক নিয়ে ছাত্রীদের বাড়িসহ অন্তত দশটি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে প্রতিবাদকারীদের বাড়িতে এবং ইতালী প্রবাসী হানিফ ঢালী, সুজন সরদার, আলমাছ ও জামালকে মারধর করে আহত করে।
পরে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে বখাটের পক্ষে নাইম, দ্বীন ইসলাম ও জিহাদ আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফ ঢালীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং নাইমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী হানিফ ঢালীর বড় ভাই খালেক ঢালী অপরদিকে নাইম মাঝির বাবা মোহাম্মদ আলী মাঝি বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
প্রবাসী হানিফ ঢালীর বড় ভাই খালেক ঢালী বলেন, মেয়েদের উত্তপ্ত করলে আমরা প্রতিবাদ করি। প্রতিবাদ করায় আমাদের মারধর করেছে। এ হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করছি।
এদিকে বখাটে নাইম মাঝির বাবা মোহাম্মদ আলী মাঝি বলেন, হানিফ ঢালীরা আমার ছেলে নাইমসহ দ্বীন ইসলাম ও জিহাদকে মারধর করেছে। নাইমের অবস্থা গুরুতর। তাই চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়েছি। আমি বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছি।
নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, ঘটনাটিতে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


error: Content is protected !!