শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

পন্ডিতসার উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মাঠে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ

পন্ডিতসার উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মাঠে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পন্ডিতসার মাঠে চিশতীনগর জনকল্যাণ প্রকল্পের সৌজন্যে এবং পন্ডিতসার উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির পরিচালনায় ঢাকা অতিথি একাদশ বানাম পন্ডিতসার স্বাগতিক একাদশ এর মধ্যে গত ১৭ মার্চ রবিবার একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় একশত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মাঠটি কয়েকটি অঘটনের ফলশ্রুতিতে দীর্ঘদিন যাবৎ উল্লেখ্যযোগ্য কোন ম্যাচ খেলা থেকে বঞ্চিত ছিল। শান্তি শৃঙ্খলার অবনতি এবং সহিংস ঘটনার কারণে এক সময়ের সদা ক্রীড়ামুখর শরীয়তপুর জেলার অন্যতম বৃহৎ এই মাঠটি প্রায় ক্রীড়াশূণ্য অবস্থায় এসে পৌঁছেছিল। চিশতীনগর জনকল্যাণ প্রকল্পের পরিচালক এবং পন্ডিতসার উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির দীর্ঘ সময়ের সভাপতি পীরজাদা প্রকৌশলী সৈয়দ গোলাম মুরসালিনের সুপরিকল্পিত উদ্যোগে আয়োজিত উল্লেখিত প্রীতি ম্যাচটি অগণিত দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ মাঠে রেকর্ড সৃষ্টিকারী শান্তি শৃঙ্খলার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শুরু হবার প্রারম্ভে গত ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্ট চার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত মুসল্লিগণের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং তাদের সম্মানার্থে ১ মিনিট নীরবতা অবলম্বন করা হয়। এর পর উভয় দলের খেলোয়াররা একসাথে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। দীর্ঘদিন পর এই মাঠে এমন দর্শনীয় ও শান্তি শৃঙ্খলাপূর্ণ ক্রিকেট ম্যাচকে স্থানীয় ক্রীড়ামোদীগণ একটি ঐতিহাসিক খেলা হিসাবে অভিহিত করেছেন। টি-২০ তথা ২০ ওভারের এই খেলায় টসে জিতে পন্ডিতসার স্বাগতিক একাদশ ব্যাট করতে নামেন। তারা নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪১ রান সংগ্রহ করেন। এর বিপক্ষে ঢাকা অতিথি একাদশ ১৮.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১২৩ রান সংগ্রহ করেন। পন্ডিতসার স্বাগতিক একাদশ ঢাকা অতিথি একাদশকে ২ উইকেট ২০ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। পন্ডিতসার স্বাগতিক একাদশের অলরাউন্ডার ইমরান হোসেন ইমু ব্যাটিং বোলিং ও ফিল্ডিং সর্বক্ষেত্রে দর্শনীয় খেলা প্রদর্শন করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ এবং তিনটি ক্ষেত্রে “গেম চেঞ্জার” এর ট্রফি জয় করেন। মোঃ সুজন সর্দার পন্ডিতসার স্বাগতিক একাদশের এবং মোঃ সাইয়েদুল আলম চৌধুরী (শুভম) ঢাকা অতিথি একাদশের নেতৃত্ব দেন। এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ আম্পায়ার বাবু পাখীরাম ঘোষ খেলা পরিচালনা করেন। তার সহযোগী আম্পায়ার ছিলেন রুবেল মীর মালত। ধারাভাষ্যে ছিলেন গাজী শাহীন এবং বাসুদেব বিশ্বাস। ডাঃ নূরুল আমিন ও ডাঃ দীপক চক্রবর্তী মাঠে ডাক্তারের দায়িত্ব পালন করেন। খেলায় মহিলা দর্শকদের জন্য বিশেষ প্যান্ডেল করা হয়।
খেলাটি এ অঞ্চলের ক্রীড়ামোদী মানুষের মনে এক অভাবনীয় উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। সমবেত জনগণের পক্ষ থেকে পীরজাদা প্রকৌশলী সৈয়দ গোলাম মুরসালিনের নিকট অদূর ভবিষ্যতে এ ধরণের সুপরিকল্পিত ও সফল খেলার আয়োজন করার আবেদন জানানো হয়।


error: Content is protected !!