বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, ২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
আজ বৃহস্পতিবার | ৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং

শরীয়তপুরে নিয়মনীতি না মেনে শ্যালো মেশিন দিয়ে ৫ কোটি টাকার খাল খনন

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০ | ২:১৪ পূর্বাহ্ণ | 84Views

শরীয়তপুরে নিয়মনীতি না মেনে শ্যালো মেশিন দিয়ে ৫ কোটি টাকার খাল খনন

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই শরীয়তপুর সদর উপজেলার মাহমুদপুর বাজার খালে শ্যালো মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করে দায়সারাভাবে খাল পুনর্খনন কাজ করার অভিযোগ উঠেছে।
নিয়ম না মেনে খেয়ালখুশি মতো ঠিকাদার খনন কাজ করলেও খবর জানা নেই পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) কর্মকর্তাদের। উপজেলা নির্বাহী অফিসারও দায় চাপালেন তাদের (বাপাউবো) উপর।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী, বিনোদপুর, চন্দ্রপুর ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী সীমানা দিয়ে বয়ে চলা খালটি খননে কাজ চলমান রেখেছে পাউবো। দরপত্রে ড্রেজার ব্যবহারের কথা না থাকলেও তা ব্যবহার হচ্ছে না খনন কাজে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে খালের উপর নির্মিত ওইসব এলাকার ব্রিজ, এলজিইডির সড়ক ও আশপাশের জমি।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, শরীয়তপুর সদর উপজেলা দিয়ে মাদারীপুরের মধ্যবর্তী সীমানা দিয়ে প্রবাহমান শোলপাড়া প্যাকেজের এই খালটি পুনর্খনন কাজ শুরু করেছে শরীয়তপুর পাউবো। এ বছরের গত ২০ ফেব্রুয়ারী শুরু হওয়া খালটির খনন কাজ শেষ হবে জুনের ২৪ তারিখের মধ্যে। প্রায় ১০ কিলোমিটার খনন কাজে ৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকার তাজওয়ার ট্রেড সিস্টেম লিমিটেডকে ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা ও সার্বিক ইন্টারন্যাশনাল ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কাগজে কলমে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও কাজ বাস্তবায়ন করছেন শরীয়তপুরের (পাউবোর) সাব-ঠিকাদারের স্বপন খান। দরপত্র নিয়ম অনুযায়ী না করে স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে বসিয়েছে শ্যালো মেশিনের অবৈধ ড্রেজার। গত এক মাস যাবত চলমান কাজে এমন অনিয়ম করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সাব-ঠিকাদারের থেকে দায়িত্ব পেয়ে গোপালগঞ্জ থেকে শ্যালো মেশিনের অবৈধ ড্রেজার ভাড়া করে এনেছেন মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খলিল কাজী। এরপর তিনি স্থানীয় নজরুল সরদারকে দিয়ে দক্ষিন মাহমুদপুর এলাকায় তিনটি শ্যালো মেশিনে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন পাশের জমিতে।
এ নিয়ে মাহমুদপুর ইউনিয়নের (৭নং ওয়ার্ড) সদস্য মোবারক আকন বলেন, সাব-ঠিকাদারের স্বপন খান আমাকে ড্রেজার চালাতে বলায় চালাচ্ছি। আমাদের (প্রভাবশালী) এক নেতার নির্দেশক্রমে এ খালের বিভিন্ন স্থানে আরো ড্রেজার বসানো হয়েছে। বালু উত্তলন করে তা বিক্রি করা হচ্ছে মানুষের কাছে। ফুট হিসেবে ২/৩ টাকা দেয়, বেশি দেয় না। অনেকে এসেছে দেখতে আপনারাও এসেছেন। দেখে যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনও কিছুদিন আগে এসে দেখে গেছে। এতে কেউ বাঁধা দেয় নাই বলেও জানায় এই জন-প্রতিনিধি।
আরেক ড্রেজার ব্যবসায়ী চন্দ্রপুর ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা পরিচয়দানকারী সোহাগ হাওলাদার বলেন, ঠিকাদার স্বপন ভাই থেকে আমি অনুমতি নিয়ে ড্রেজার বসাইছি। এলাকার মানুষের উপকার করতে আমরা এমন কাজ দায়িত্ব নিয়ে করছি। আমাদের নেতাও জানে বিষয়টা। অনেক সাংবাদিক এসে দেখেছে বিষয়টি। এই বলে কয়েকটি ভিজিডিং কার্ড বের করে দেখান তিনি। পরে অনুমতির কাগজ দেখানোর আশ্বাস দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বাজারে চলে যান।
ওই এলাকাবাসী আসানুল সরদার, মোবারক আকনসহ অনেকে লোকজন জানান, নকশা অনুযায়ী খালের দুই ধারে পাড় নির্মাণ করে খালের তলদেশ খনন করতে বলা হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে, যা মূলত ভূগর্ভস্থ অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এমনকি পুরো খালের মধ্যে প্রায় ১০টি অবৈধ শ্যালো মেশিন লাগিয়ে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করে দায়সারা কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ও বাপাউবো। আর খনন করা পলিমাটি ও বালু বিক্রি হচ্ছে কাছেই। বর্ষা মৌসুম এলে এ কারণে ভাঙন দেখা দিবে। এতে একদিকে যেমন সরকারের কোটি টাকা নদীর পানিতে ভেসে যাবে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আশপাশের ফসলি জমি, ব্রিজ, রাস্তাঘাট ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম।
এ নিয়ে দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটি সার্বিক ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ত্বাধিকারি ফাইজুল রহমার খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দুইটি প্যাকেজের কাজ’ই সাব ঠিকাদার স্বপন করছে। আপনারা তার সাথে যোগাযোগ করেন। পরে (পাউবোর) সাব-ঠিকাদার স্বপন খান বলেন, আমি কিছু জানি না। কারা এমন কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন দেখবে বলামাত্র ফোনটি কেটে দেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এল, এম, আহসান হাবীব বলেন, আমার বিষয়টি জানা নেই। ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুর রহমান শেখ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ হলে তারা বিষয়টি দেখবে। তাদেরকে এর আগেও এমন বিষয়গুলো দেখার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু এখন এই ড্রেজার চালানোর কিছু জানি না।


-Advertisement-
সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেইসবুক পাতা

-Advertisement-
-Advertisement-
error: Content is protected !!