মঙ্গলবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২১ ইং, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ই রমজান, ১৪৪২ হিজরী
মঙ্গলবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২১ ইং
মাদারীপুরের কালকিনিতে

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুর চোখ উৎপাটনের চেষ্টা

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুর চোখ উৎপাটনের চেষ্টা

মাদারীপুরের কালকিনিতে যৌতুকের দাবিতে সাদিয়া(২১) নামে এক গৃহবধুর চোখ উৎপাটনের চেষ্টাসহ মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে থানা পুলিশের সহযোগীতায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহ বধুকে উদ্ধার করে বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নির্যাতনের ঘটনায় ওই ভুক্তভোগী পরিবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার (১৫ মার্চ) সকালে ভুক্তভোগী পরিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোপালপুর এলাকার পশ্চিম বনগ্রাম গ্রামের অসহায় কৃষক বারেক চৌকিদারের মেয়ে সাদিয়া বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার বালিগ্রাম এলাকার গুঙ্গিয়াকুল গ্রামের কাসেম মোল্লার প্রবাসী ছেলে নাসির মোল্লার প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় স্বামী নাসির মোল্লা স্ত্রী সাদিয়া বেগমকে যৌতুকের টাকার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তু সাদিয়ার পরিবার অতি দরিদ্র হওয়ায় দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হয়। এতে করে যৌতুক লোভী স্বামী নাসির মোল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে গত শনিবার দুপুরে পরিবারের লোকজন নিয়ে সাদিয়ার দু’চোখ উৎপাটনের চেষ্টাসহ মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। নির্যাতিত গৃহবধুর পরিবার খবর পেয়ে উপজেলার ডাসার থানা পুলিশের সহযোগীতায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহ বধুকে উদ্ধার করে বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ওই নির্যাতিত সাদিয়ার মা পারভীন বেগম বাদী হয়ে স্বামী নাসির মোল্লাসহ ৮ জনকে আসামী করে ডাসার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে রয়েছে।

মামলার বাদী পরভীন বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার মেয়ে জামাই নাসিরের দাবীকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়েকে দিনের পর দিন প্রচন্ড মারধর করে এবং তার পরিবারের লোকজন নিয়ে আমার মেয়ের দু’চোখ উৎপাটনের চেষ্টা করে। তাই আমি তাদের নামে মামলা করেছি।

অভিযুক্ত নাসির মোল্লার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলার ডাসার থানার এসআই মোঃ রিপন মোল্লা বলেন, খবর পেয়ে আমি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ওই গৃহ বধুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। এবং নির্যাতনের বিষয় মামলা হয়েছে। আসামী গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।