বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল, ২০২০ ইং, ১৯শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
আজ বৃহস্পতিবার | ২রা এপ্রিল, ২০২০ ইং

মাদারীপুরে এলজিইডির ইউডিএ ঠিকাদারদের হামলা : নারী সাংবাদিক গুরুতর আহত

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২০ | ২:২৭ পূর্বাহ্ণ | 87Views

মাদারীপুরে এলজিইডির ইউডিএ ঠিকাদারদের হামলা : নারী সাংবাদিক গুরুতর আহত

মাদারীপুরে এলজিইডি অফিসের উচ্চমান সহকারী (ইউডিএ)’র কাছে বিজ্ঞাপন আনতে গিয়ে তলপেটে তার লাথির আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে সাংবাদিক সাবরিন জেরীন। এ সময় আহত হন তার স্বামী অপর সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই ঘটনার পর রাতেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দু’সন্তানের জননী আহত নারী সাংবাদিক গত দুদিন ধরে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ছোট ছেলের বয়স দেড় বছর। দু’দিনেও আহত নারী সাংবাদিকের শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি।

আহত সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আজকের বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও আমাদের নতুন সময় পত্রিকার মাদারীপুর প্রতিনিধি সাবরিন জেরীন (২৫) ও দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার মাদারীপুর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৬) দম্পত্তি মাদারীপুরে সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি-বেসরকারি বিজ্ঞাপনও স্ব স্ব পত্রিকা অফিসে প্রেরণ করতেন। মঙ্গলবার দুপুরে সাবরিন জেরীন বিজ্ঞাপন সংগ্রহের জন্য এলজিইডি অফিসে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে দেখা করেন। তখন তার পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার। সন্ধ্যা ৭টার পর ওই অফিসের উচ্চমান সহকারী (ইউডিএ) নাসির উদ্দিন মোবাইল ফোনে সাংবাদিক সাবরিন জেরীনকে কল দিয়ে রাতেই বিজ্ঞাপন এনে তার পত্রিকায় প্রেরণ করতে বলেন। ফোন পেয়ে কিছু সময় পরেই সাবরিন জেরীন এলজিইডি অফিসে যান। কিছু সময় তাকে বসিয়ে রাখার পর তাকে বিজ্ঞাপন দেয়া যাবে না, অন্য একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়ে গেছে বলে জানান ইউডিএ নাসির উদ্দিন। এ সময় তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এরপর সাবরিন জেরীন নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতারের কক্ষে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী তাৎক্ষণিক ইউডিএ নাসিরউদ্দিনকে ডেকে সাবরিন জেরীনকে না দেয়ার ব্যাপারে কারণ জানতে চান এবং বিষয়টি সমাধান করতে বলেন।

এরপর সাবরিন জেরীন ইউডিএ’র কক্ষে অবস্থান করতে থাকেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দেয়ায় ইউডিএ নাসির উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে সাবরিন জেরীনের সাথে অশালীন আচরণ করেন। বিষয়টি সাবরিন জেরীন তার স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জানালে তিনি ওই অফিসে যান। এ সময় সাবরিন জেরিন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আব্দুল্লাহ আল মামুন তার স্ত্রী সাংবাদিক সাবরিন জেরিনের সাথে খারাপ ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে ইউডিএ নাসির উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করে ও মারধরে উদ্যত হয়। এ সময় ওই কক্ষে ও বাইরে অবস্থানরত একাধিক ঠিকাদার এগিয়ে এলে তিনি সাংবাদিকদের মারতে নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনা পেয়েই ঠিকাদার ও তাদের সহযোগীরা ১২ থেকে ১৫ জন মিলে সাংবাদিক দম্পত্তিকে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে সাবরিন জেরিনের তলপেটে লাথি দেয়া হয়। এতে তার সিজারিয়ান অপারেশনের স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তিনি প্রসাব করে দেন। এক পর্যায়ে তাদের বাঁচাতে এগিয়ে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের ভাই আজকালের খবর পত্রিকার সাংবাদিক আরিফুর রহমানকেও (২৮) মারধর করা হয়।

আহত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের বলেন, তারা অফিসের দরজা ও কলাপসিবল গেট আটকে আমাদের বেদম মারধর করেছে। আমাকে প্রয়োজনে তারা মেরে ফেলতো কিন্তু আমার স্ত্রীকে কেন মারধর করলো? আমি তাৎক্ষণিকভাবে রাতেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমাদের উপর কেমন হামলা করা হয়েছে এবং কতটা মারধর করেছে তা অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে।

মাদারীপুরের কালেরকন্ঠের সাংবাদিক আয়শা সিদ্দিকা আকাশী বলেন, বাইরে কোন জায়গায় নয়, একটি সরকারি অফিসে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। বিশেষ করে একজন সিজারিয়ান নারীর তলপেটে লাথি দেয়ায় তার অপারেশন ও সেলাইয়ের স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং মারধরের কারণ সাংবাদিক জেরীন বমি ও প্রসাব করে দিয়েছেন। এই ধরণের অমানবিক ঘটনা এক নারী সাংবাদিকের সাথে মেনে নেয়া যায় না। আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই।

এদিকে ঘটনার বুধবার সন্ধ্যায় মাদারীপুরের মৈত্রী মিডিয়া সেন্টার নামে একটি সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান বাদল, জহিরুল ইসলাম খান, এসএম আরাফাত, সঞ্জয় কর্মকার অভিজিৎ, ফরিদ উদ্দিন মুপ্তী, মাসুদুর রহমানসহ অন্যরা।

এদিকে এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাদারীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান খান, কার্যকরী সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক ইয়াকুব খান শিশির, সহ-সম্পাদক মনির হোসেন বিলাস, নারী বিষয়ক সম্পাদক আঞ্জুমান জুলিয়াসহ অন্যান্য সদস্যরা। তারা ঘটনার পরপরই সদর থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান এবং উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করেন।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞা জানান, এলজিইডি অফিসের ঘটনায় সদর থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে মাদারীপুর এলজিইডি অফিসের উচ্চমান সহকারি (ইউডিএ) নাসির উদ্দিন বলেন, সাংবাদিক মামুন আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করলে অফিসে উপস্থিত ঠিকাদাররা প্রতিবাদ করে। এতে তাদের সাথে বাক-বিতণ্ডা, হাতাহাতি ও মারামারি হয়। আমি কোন সাংবাদিকদের গায়ে হাত দেইনি। এছাড়া আমি সরকারি কর্মচারি তাই অফিসে যে ঘটনা ঘটেছে সেই বিষয়টি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

মাদারীপুরের এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার বলেন, আমাদের অফিসে যে ঘটনা হয়েছে এটা অপ্রত্যাশিত এবং এতে আমরা সবাই বিব্রত। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকায় প্রকৃতপক্ষে কি ঘটেছে তা বিবেচনা করেই বিষয়টি দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।

মাদারীপুর জেলা পুলিশের গণমাধ্যম মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) বদরুল আলম মোল্লা বলেন, খবর শুনে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুই পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সাবরিন জেরিন নামে নারী সাংবাদিক হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমরা হাসাতালে গিয়ে তার অবস্থা দেখে এসেছি।


-Advertisement-
সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেইসবুক পাতা

-Advertisement-
-Advertisement-
error: Content is protected !!