শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকারের অপরাধে সাত জেলেকে আটক করে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) গভীর রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত টানা অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানিয়া বিনতে আফজল অভিযুক্তদের দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

অভিযানে প্রায় ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ১০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন—কুচাইপট্রি ইউনিয়নের ভিমখিল গ্রামের শাকিল (১৮), বসকাঠি গ্রামের খলিল (৩৫), চরশিমুলিয়ার ছায়েদ হাওলাদার (৪০) ও জয়নাল আবেদিন মিজি (২৮), কোদালপুর ইউনিয়নের ছৈয়ালপাড়া গ্রামের আজাহারুল (২০), হারেজ সরদার (৩৫) ও টিটু সরদার (২০)।

উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে রাত ৩টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় অনেক জেলে পালিয়ে গেলেও সাতজনকে আটক করা সম্ভব হয় বলে জানানো হয়েছে।

শরীয়তপুরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম বলেন, “প্রাকৃতিক সম্পদ ও ইলিশের টেকসই প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে। নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ ধরা, বিক্রি বা সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এবং ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

প্রসঙ্গত, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে সরকার ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সময় নদী ও উপকূলীয় এলাকায় কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।