শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী কর্তৃক জোরপূর্বক বাড়ি ও সম্পত্তি দখলের গুরুতর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।
আজ ১২ ডিসেম্বর বিকেল ৫টায় নড়িয়া প্রেসক্লাবে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামের ইয়াকুব ঢালীর পুত্র।
সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি ১৯৯৯ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন পার্শবর্তী ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের আকসা গ্রামের মুসলেম মীরের কন্যা রাজিয়া সুলতানাকে। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে তিনি ২০০৭ সালে সৌদি আরবে যান। তখন থেকেই পরিবারের প্রতি পুরো দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মোস্তাফিজ দাবি করেন, বিদেশে অবস্থানকালে তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরে ২০২২ সালে রাজিয়ার পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
তিনি জানান,“রাগে, ক্ষোভে, লজ্জায় ২০২৪ সালে রাজিয়াকে তালাক দিই এবং তার প্রাপ্য তাকে বুঝিয়ে দেই। কিন্তু তালাকের পরও সে আমার বাড়ি দখল করে বসবাস করতে থাকে।”
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি গেল নভেম্বর মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। দেশে এসে দেখেন, স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে রাজিয়া সুলতানা তার ২ একর জমির ওপর নির্মিত বিশাল বাড়িটি পুরোপুরি দখল করে নিয়েছেন। এতে তিনি নিজ বাড়িতে প্রবেশও করতে পারছেন না।
বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে উঠতে না পেরে স্থানীয় একটি আবাসিক হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের বাড়ি ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান।
মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন,“আমি শুধু আমার নিজ বাড়িতে থাকতে চাই। আমার বৈধ সম্পত্তি অন্যায়ভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি এ বিষয়ে নড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন