আমি বেয়াদব আমাকে কেউ কিছু বলতে পারবে না। কেউ ইজ্জত নিয়ে স্কুল থেকে যেতে পারবে না। এভাবেই স্কুলে এসে শিক্ষিকাদের সাথে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন। সেই সাথে শিক্ষিকাদের ইজ্জত নিয়ে হুমকি দিয়েছে। শিক্ষিকারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এমন অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৫৮ নং তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২৯ জানুয়ারি বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টায় এ ঘটনা ঘটে।
তেতুলিয়া গ্রামে গিয়ে জানা যায়, এলাকার বেয়াদব নামে পরিচিত শিপন কতোয়াল (২৫)। সে তেতুলিয়া গ্রামের মজিদ কতোয়ালের ছেলে।
শিক্ষিকা ফারজানা বলেন, বিদ্যালয়ে এসে সে শিক্ষা অফিসারের মত প্রশ্ন করা শুরু করে। বলে স্কুলে ক্লাশ করেন না। শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করাই। এ ধরনের উল্টাপাল্টা কথা বলে। আমরা কিছু বলতে গেলে, শিপন বলে আমি পুরুষ মানুষ আমার কিছু হবে না। ছেলেটিকে নেশা খোর মনে হয়েছে। ওর আচরণ খুব খারপ ছিলো। আপনি মেয়ে মানুষ ইজ্জত নিয়ে যেতে পারবেন না। আমি তার কথায় নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
শিক্ষিকা ফারজানা বলেন, আমরা নাকি স্কুলের বাচ্চাদের দিয়ে থালা বাসন মাজায়। মাথা বিলিয়ে উঁকুন আনায়। খামখা এই ধরনের অভিযোগের কথা বলে। আমরা কথার উত্তর দিলে, আমাদের সাথে অকথ্য ভাষায় অশালীন আচরণ করেন। শিপন ছেলেটি বলে, আমি বেয়াদব, আমাকে সবাই চিনে। আপনি মেয়ে মানুষ আপনার ইজ্জত থাকবে না। আমার কিছুই হবে না। আমি বেয়াদব এলাকার সবাই জানে। আমরা ৬ জন মহিলা শিক্ষক ওর কথায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, এলাকাবাসি বলেন, ছেলেটা আসলেই বেয়াদব, ঘাওরা। পরিবার সহ এলাকার কেউ শিপনের বেয়াদবির বিচার করে না। তাই দিন দিন তার অত্যাচার বেড়ে চলছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাঈদুর রহমান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষিকাদের একত্রে করে ডেকে নিয়ে, অসৌজন্য মূলক অশালীন ভাষায় কথা বলেন। এই বিষয়টি আমি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আঃ রহমান কতোয়ালকে বলেছি। দেখি ম্যানেজিং কমিটি কি করে।
এনিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আঃ রহমান কতোয়ালকে বলেন, আসলেই ছেলেটি এলাকার বেয়াদব। ও নিজেই শিকার করেছে। কোন সুস্থ জ্ঞানের মানুষ এধরনের আচারণ করে না। সে অন্যায় করেছে। তার বিচার হওয়া উচিৎ। আমি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। মেয়র রফিকুল ইসলাম কতোয়াল আমাদের এলাকার। তাকে নিয়ে আমরা সামাজিক ভাবে বিচার করবো।
পালং মডেল থানার এসআই শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে এসে আমরা জানলাম, সবার কথা শুনলাম। থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা পরবর্তি ব্যবস্থা নিবো।

Facebook Comments Box