ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জনগণের দ্বারা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন এবং তার রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়েছে।

কেইপিজেড প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, আগের বিএনপি সরকারের সময়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল বলে পরবর্তী সরকার সেটিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করেনি। তিনি এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এ সময় শেখ হাসিনার সমালোচনা করতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও তোলেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার সময়ে শেখ হাসিনার সরকার দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে এবং দুর্নীতি ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করেছে। এসব বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ; সংশ্লিষ্ট পক্ষের পাল্টা বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

১৯৯৯ সালের একটি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রসঙ্গও সংবাদ সম্মেলনে তোলেন হুমায়ুন কবির। তিনি ওই রায়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শেখ হাসিনার আচরণ নিয়ে মন্তব্য করেন। তবে ওই রায়ের বিষয়ে তার বক্তব্যের সঙ্গে আদালতের রায়ের মূল বক্তব্যের সামঞ্জস্য নিয়ে যাচাইযোগ্য প্রামাণ্য নথি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এগুলোকে গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতে অবস্থান করে ভার্চ্যুয়ালি রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, তার ফিরে আসার ‘কোনো চান্সই নেই’। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা, তার দল ও পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জনগণের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ভালো উদ্যোগগুলো আগের কোনো সরকারের সময়ে নেওয়া হলেও সেগুলো চালু রাখার চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

Facebook Comments Box