পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকাকে রক্ষায় নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ বাঁধটির সংস্কার প্রস্তাব দুই বছর আগে জমা দিয়েও বাস্তবায়ন করা যায়নি। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) আপত্তির কারণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কাজটি অনুমোদন দেয়নি। আর সেই অবহেলার মাশুল এখন দিচ্ছে শরীয়তপুরের জাজিরাবাসী। পদ্মার ভাঙনে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে প্রায় ৬০০ মিটার বাঁধ। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নাওডোবা, মুন্সিকান্দি ও আশপাশের অন্তত ৬০০ পরিবারের মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের আওতায় জাজিরা প্রান্তে ১১ কিলোমিটার নদীশাসন করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পরে সেতুর ভাটির দিকে আরও ২ কিলোমিটার বাঁধ তৈরি করা হয়। ২০২৩ সালে পাউবো ও ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) সমীক্ষায় এই ২ কিলোমিটার বাঁধের ঝুঁকি ধরা পড়ে। কিন্তু বিবিএ অনুমতি না দেওয়ায় পাউবো তা সংস্কার করতে পারেনি।
ফলে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে জাজিরার জিরো পয়েন্ট এলাকায় শুরু হয় ভাঙন। ধারাবাহিকভাবে ৭ জুন, ৭ জুলাই, ৯ জুলাই এবং সর্বশেষ ৩০ জুলাই মিলিয়ে ৬০০ মিটার বাঁধ পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বাঁধ ভাঙনের স্থান থেকে পদ্মা সেতুর দূরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার। আশপাশে রয়েছে পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২, সেনানিবাস, থানা ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
পাউবোর কর্মকর্তারা বলছেন, এবার ভাঙন ঠেকাতে জরুরি কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের নকশা তৈরির কাজ চলছে। নকশা চূড়ান্ত হলে প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
গত ১৫ জুলাই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন পানিসম্পদ সচিব নাজমুল আহসান ও সেতু বিভাগের সচিব আবদুর রউফ। তারা জানান, আট কিলোমিটার নতুন তীররক্ষা প্রকল্পের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ওই দুই কিলোমিটার বাঁধকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের বলেন,
ভাঙন প্রতি বছরই হয়, কিন্তু এবার যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে।
এদিকে সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু শাদ নিলয় দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন,
নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সংস্কার দেরি হলে বিভিন্ন স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়বে। এখন পাউবো দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকির কথা আগেই জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ সময়মতো ব্যবস্থা নেয়নি। এখন দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হলে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে বলে তারা মনে করছেন।

মন্তব্য করুন