শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিঝারী ইউনিয়নে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড নিতে ঘুষ দাবীর অভিযোগ উঠেছে সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বার মুন্নী বেগমের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, কাগজপত্র ঠিক থাকলেও সর্বনিম্ন ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা না দিলে কার্ড দেওয়া হয় না। অভিযোগ রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে এ টাকা ভাগ বাটোয়ারা হয়ে থাকে।
এ সংক্রান্ত একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। অডিওতে ইউপি সদস্য মুন্নী বেগমকে বলতে শোনা যায় “টাকা ছাড়া কার্ড করা যায় না। কারো থেকে ৩ হাজার, কারো থেকে ৪-৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। যে যা পারে তাই দেয়। আর এই টাকা আমরা মেম্বাররা একা খাই না, সবাই মিল্লা জিল্লাই খাই।”
ভুক্তভোগী তালহা জুবায়ের জানান, “আমার এক নিকটাত্মীয়ের মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড তৈরীর জন্য সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মুন্নী মেম্বার আমার নিকট টাকা দাবি করেন। তিনি বলেন, ৪/৬ হাজার টাকা লাগবে। টাকা ছাড়া কাজ হয় না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও এক ভুক্তভোগী জানান, “মেম্বার আমাদের কাছ থেকে কাগজপত্র আর টাকা নিয়ে রাখেন। কাজ না হলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন।”
এব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মুন্নী বেগম বলেন, “আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেই না। আগে কেউ খুশি হয়ে কিছু দিত, এখন তাও নেই না।”
বিঝারী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মলিনা নাসরিন বলেন, “এই অভিযোগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মেম্বার যদি আমাকে জড়িয়ে থাকে, তবে প্রমাণ করতে হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতিমা নাহিয়ান জানান, “মাতৃত্বকালীন ভাতা নিতে কোনো টাকা লাগে না। আমাদের কারো সম্পৃক্ততার প্রশ্নই আসে না। কেউ ভাতার নামে টাকা নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন