শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে গরুরহাট অবৈধ বরাদ্দের প্রতিবাদে মানববন্ধন করা ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। গোসাইরহাটের দাশেরজঙ্গল বাজার ব্যবসায়ী ও হাট ইজারাদারদের উদ্যোগে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে দাশেরজঙ্গল গরুরহাটে ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বৃহত্তম ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সবচেয়ে বড় গরুরহাট শরীয়তপুরের গোসাইরহাট দাশেরজঙ্গল বাজার গরুরহাট।

গোসাইরহাট পৌরসভা এই হাটটি থেকে প্রতিবছর ৩ কোটি টাকা আয় করে থাকে।

যা হাটবাজার উন্নয়নসহ জনস্বার্থমূলক কাজে ব্যয় করে হয়। গরুরহাটে ১.৩৫ একর জমি রয়েছে। এসএ খতিয়ানে জমির মালিক জেলা প্রশাসক। কিন্তু বিআরএস খতিয়ানে মাত্র ৭ শতাংশ জমি ভূলবসত শরীয়তপুর জেলা পরিষদের নামে রেকর্ড হয়। এই সুযোগে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিদের যোগসাজশে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ গরুরহাটের জমি অবৈধভাবে বরাদ্দ প্রদানের চেষ্টা করছে।এতে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এমন কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোসহ জেলা পরিষদের এমন জনস্বার্থ বিরোধী কার্যক্রম বন্ধের দাবি তাদের। এনিয়ে বাজার ব্যবসায়ী ও হাট ইজারাদারদ শুক্রবার দুপুরে দাশেরজঙ্গল গরুরহাটে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী জিয়া জমাদ্দার বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এই হাটে ব্যবসা করছি। দাশেরজঙ্গল গরুর হাট একটি ঐতিহ্যবাহ বাজার। এখানে দুই হাজার দোকান আছে শুধুমাত্র এই হাটের উপর নির্ভরশীল। এই হাটের জমি জেলা প্রশাসনের। ভুলবশত ৭ শতাংশ জমি জেলা পরিষদের নামে রেকর্ড হয়। এরপর থেকে গরুর হাটের ৭ শতাংশ জমি কিছু অতিউৎসাহী লোক জেলা পরিষদের সহযোগিতায় লিজ নিতে চাইছে। অবৈধভাবে হাটের জমি অন্য কাউকে বরাদ্দ দিলে আমাদের ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক।”

স্থানীয় আনোয়ার হোসেন বলেন, “এই হাট শুধু ব্যবসার জায়গা নয় এলাকার অনেক মানুষের জীবিকার উৎস। রেকর্ড হতেই পারে!রেকর্ড সংশোধন হবে। তাইবলে কি অন্যকোথাও ইজারা দিতে হবে। জদি জেলা পরিষদ এই ৭ শতাংশ জমি ইজারা দেয় তবে আমি মনে করি আমাদের হাটের নামে অথবা গোসাইরহাট পৌরসভার নামে দিবে। অবৈধভাবে জেলা পরিষদ এই হাটের জমি যদি ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে কঠোর আন্দোলনে যাবো। গোসাইরহাট টু শরীয়তপুর রোড মার্চ করবো। জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের অনুরোধ দ্রুত রেকর্ড সংশোধন করে আমাদের বৃহত্তম দাশেরজঙ্গল বাজার সুন্দর ও সঠিক ভাবে পরিচালনা করার সহযোগিতা করুন। এই হাট অবৈধ দখল হলে সাধারণ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে।

গোসাইরহাট দাশেরজঙ্গল বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান বলেন, বৃহত্তম ফরিদপুরের মধ্যে অন্যতম গরুর হাট দাশেরজঙ্গল বাজার। এখানে প্রায় দশটি জেলার মানুষ গরু কেনাবেচা করতে আসেন। এই হাটের সাথে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের রুটিরুজি জড়িয়ে আছে। কিছুদিন আগে শুনতে পারলাম ১.৩৫ একর জমির মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ জমি জেলা পরিষদের নামে রেকর্ড হয়। এরপর সেই জমি জেলা পরিষদ ইজারা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমার কথা হচ্ছে ভুলবশত রেকর্ড হতেই পারে একটি বিশাল হাটের একাংশ অন্যকাউকে ইজারা দেওয়ার কি আছে। যদি ইজারা দিতেই হয় তাহলে পৌরসভা অথবা গরুর হাট পাবে। এভাবে হাটের একটি অংশ অবৈধ বরাদ্দ দিলে বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। সরকার যেমন রাজস্ব হারাবে তেমনি আমাদের জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে। আমি এই অবৈধ বরাদ্দ বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে গরুরহাট পরিচালনার দাবি জানান।

এবিষয়ে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সানিয়া বিনতে আফজল বলেন, গোসাইরহাট দাশেরজঙ্গল গরুর হাটের ১.৩৫ একর জমির মধ্যে ৭ শতাংশ জমি জেলা পরিষদের নামে বি.আর.এস রেকর্ড হয়। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং রেকর্ড সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আসা করছি খুব শীগ্রই এই জটিলতার অবসান ঘটবে।