অ্যান্টিবায়োটিকের ভুল ব্যবহার ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়া এখন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। সাধারণ সংক্রমণও জটিল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।
অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। কিন্তু বারবার বা ভুলভাবে সেবনের ফলে জীবাণু নতুন কৌশল শিখে নেয় এবং ওষুধ আর কার্যকর থাকে না। ২০২৩ সালের ডব্লিউএইচও রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রতি ছয়টি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের মধ্যে একটি সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মূত্রনালী, শ্বাসনালী ও ক্ষতের সংক্রমণ চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ছে।
চিকিৎসকেরা জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় সহজে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায় বলে মানুষ ভাইরাসজনিত অসুখেও তা খেয়ে ফেলেন। এতে শরীরের ভালো ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়, প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং প্রতিরোধী জীবাণু বাড়তে থাকে। অনেকেই কোর্স মাঝপথে বন্ধ করে দেন, ফলে জীবাণু আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ছোট অপারেশন, দাঁতের চিকিৎসা কিংবা প্রসবও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তারা বলছেন, অ্যান্টিবায়োটিকের ভুল ব্যবহার বন্ধ করা, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়া এবং পুরো কোর্স শেষ করা এখন সবচেয়ে জরুরি।

মন্তব্য করুন