ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই গ্রাম যেন হঠাৎ করে রূপ নিয়েছে রণক্ষেত্রে। ছলিম ও চাঁন্দের গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বিরোধ এক ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নিয়েছে। মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তেজনা গত ১৪ মে এক প্রাণঘাতী সংঘর্ষে পরিণত হয়। এতে নিহত হন মিয়াজুল হোসেন নামের একজন ব্যক্তি। এরপর শুরু হয় সহিংস তাণ্ডব—ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগে পুড়ে যায় প্রায় ৭০টি বাড়ির শতাধিক ঘর।

সাম্প্রতিক হামলায় প্রতিবন্ধী শাহজাহান মিয়ার মেয়েদের ‘সুখের নীড়’ নামের স্বপ্নের বাসভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে একই পরিণতি হয়েছে গ্রামের আরও বহু পরিবারের। কেউ ঘরে ফিরতে পারছে না, অনেকেই এখনও গা ঢাকা দিয়ে আছেন আত্মরক্ষায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার সময় নারী ও শিশুদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। বাড়ি-ঘরে ঢুকে লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার ওপরে।

নিহত মিয়াজুলের পরিবার বলছে, গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব নিরসনে তারা বহুবার সালিশ-আপসের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে। এখনো পুলিশ টহল দিচ্ছে এলাকায়, এবং এ পর্যন্ত ৩টি মামলা দায়ের ও ৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, দুই গোষ্ঠীর এই বিরোধ নতুন নয়, তবে এমন ভয়াবহ পরিণতি আগে দেখা যায়নি। স্থানীয় নেতাদের অনীহা, বিচারহীনতা ও রাজনৈতিক প্রভাবেই হয়তো পরিস্থিতি এতদূর গড়িয়েছে।

নাটাইয়ে এই সহিংস সংঘর্ষ কেবল একটি গ্রামের নয়, বরং গোটা সমাজে আইন-শৃঙ্খলার বাস্তবতা ও গোষ্ঠীগত সহিংসতার ভয়াবহতা তুলে ধরে। স্থানীয়রা এখন একটাই দাবি জানাচ্ছেন—নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার।

Facebook Comments Box