ঢাকার নবাবগঞ্জে ২৭ মামলার আসামি যবদল নেতা আমজাদকে গ্রেফতার জন্য ভোর রাতে পুলিশের অভিযান। ফজরের নামাজ পড়তে এসে ধানক্ষেতের পাশে থেকে আমজাদের লাশ উদ্ধার করলো মুসল্লীরা। নিহতের ভাইয়ের দাবি পুলিশের ভয়ে দৌড়ে পালাতে দিগে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলামের দাবি ২৭ মামলার আসামি ও কোটের একটি সাজার ওয়ারেন্ট তামিলের ভোর আমজাদের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। আমজাদকে বাড়িতে না পেয়ে পুলিশ থানায় ফেরত চলে আসে। পরে ধানক্ষেতে তার লাশ পওয়া গেলে এজন্য পুলিশ দায়ীনা?
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন (৫২) এর লাশ বাড়ির কাছে ধান ক্ষেতর পাশ থেকে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লীর তার উদ্ধার করে পরিবারকে খবর দেয়।
রোববার (৬ জুলাই) ভোরে বসত বাড়ির মাত্র একশ গজ দুরে রাস্তার পাশে একটি ধনচে ক্ষেতের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবদল নেতা আমজাদ হোসেনের বাড়ি উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের মৃধাকান্দা গ্রামে তার পিতার মাম আবদুল খালেক।

প্রয়াত এই যুবদল নেতার নামে একটি অর্থ আত্মসাত সংক্রান্ত মামলায় কিছুদিন আগে আদালত কর্তৃক এক বছরের কারাদণ্ডের গ্রেফতারী পরোয়ানা ছিল বলে পুলিশ জানায়। তাছাড়াও তাঁর নামে বিভিন্ন থানায় রাজনৈতিক ও জমি সংক্রান্ত মামলা সহ ২৭টি মামলা ছিল বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

নিহতের স্বজন ও এলাকার প্রত্যদক্ষদর্শীরা জানায়, ভোর ৪টার দিকে সাজার পরোয়ানা তামিল কারার জন্য আমজাদকে গ্রেফতারের অভিযান চালায় নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। আমজাদ পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ আমজাদকে বাড়িতে না পেয়ে পরে থানায় ফিরে যায়।

রবিবার ভোর ৫,টার দিকে স্থানীয় লোকজন ও মসজিদের মুসুল্লীরা ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য মৃধাকান্দার রাস্তা দিয়ে মসজিদে যাওয়ার পথে ধনচে ক্ষেতের পাশে আমজাদের লাশ দেখে আমজাদের পরিবারেকে খবর দেয়। এসময় পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা আমজাদকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ নিয়ে বাড়ি চলে আসে স্বজনরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যুবদল নেতা আমজাদকে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনরা সবাই ছুটে আসে আমজাদের বাড়িতে। সংবাদ পেয়ে নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ আমজাদের বাসায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে।

আমজাদের ভাই জাহিদুল জানান আমার ভাই রাজনীতি করে। তাঁর অনেক প্রতিপক্ষ আছে। পুলিশ তাঁকে ধরতে আসে। আমার ধারনা সে পুলিশের দাওয়া খেয়ে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হতে পারে? আমজাদের মৃত্যু জন্য তিনি পুলিশকেই দায়ী করে। আমজাদের বড় মেয়ে আশা আক্তার ইউ এন বি কে জানান বাবার মুখে, চোখের পাশে ও হাটুতে কয়েকটি জখমের চিহ্ন রয়েছে।

পরিবারের আগ্রহ না থাকলেও পরে নিহতের পরিবারের সম্মতিতে পুলিশ যুবদল নেতা আমজাদের লাশ সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য দুপুরে ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন। নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, আমজাদ হোসেনের মৃত্যুর কারন নিশ্চিত হতে হলে ময়নাতদন্ত করা জরুরী। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

যুবদল নেতা আমজাদের মৃত্যুর সংবাদ শুনে শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে ছুটে আসেন বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের মেয়ে ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান সহ নেতাকর্মীরা। এসময় মেহনাজ মান্নান নিহতের পরিবারকে শোক ও সমবেদনা জানান। নিহত যুবদল নেতার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মেহনাজ মান্নান আরো বলেন বলেন, আমজাদ যুবদলের একজন ত্যাগী নেতা। তিনি পুলিশের একধিক মামলা হামলার শিকার হয়েছে। এভাবে তার রহস্যজনক মৃত্যু হবে তা ভাবতে পারিনি। মৃত্যুর কারণ আমরা খুঁজে বের করতে চাই। এব্যপারে নবাবগঞ্জ থানা দুপুরে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

Facebook Comments Box