পরিবারের আয় করা এক মাএ ব্যক্তিটি যখন অসহায় হয়ে পড়ে। পরিবারে তখন নেমে আসে কালো আধারে এক অধ্যায় । আবার যখন ছেলের কাঁধে থেকে বৃদ্ধ বাবার কাঁধে দায়িত্ব পড়ে বাবা তখন এসব শয়তে না পেরে চিন্তায় স্টক করে চলে যান পৃথিবী ছেড়ে। ঘটনাটি মেহেরপুর গাংনী উপজেলার ভরাট গ্রামের মিল্টন হোসেন যিনি মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন লাইন শ্রমিক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
মিল্টন বলেন, আমি ছিলাম মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুতের একজন কর্মী, লাইনম্যান হিসেবে নিয়োজিত ছিলাম। গত ১৭ ই মার্চ প্রতিদিনের নেই,কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় আমার দুর্ঘটনা ঘটে। সেদিন আমার এক্সিডেন্ট হওয়ার পর আমার সহকর্মী বিন্দু এবং আমার অফিস কর্তৃপক্ষ সংবাদ পেলে তারা আমাকে নিয়ে মেহেরপুর ২৫০ শর্যবিশিষ্ট মেডিকেল হসপিটালে ভর্তি করে, কর্তব্য রত চিকিৎসক দেখে বলে আমার জরুরী এক্সে করতে বলে, রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি বলেন পা ভেঙে গেছে।
একে দ্রুত অপারেশন করা লাগবে, আমার অফিস কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেহেরপুরে অপারেশন করা হয়, অপারেশন পরবর্তী সময় পায়ের ইনজুরি বেড়ে যাওয়ার কারণে আমাকে ঢাকা পঙ্গুতে রেফার্ড করা হয়।মেডিকেল টিম দেখে বলে আমার পায়ের অবস্থা ভালো নয় পা কেটে ফেলা লাগবে, আমি বলছিলাম আমার বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো ছিল।
আমার অফিস কর্তৃপক্ষ আমার সহকর্মের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দেয়, উনাকে সিদ্ধান্ত দিতে বলেন উনার চাকরিবহাল থাকবে কোন চিন্তা করা লাগবে না,পরে ২৩ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে আমার পায়ের অপারেশন করা হয়, পা কর্তন করে। আমি পঙ্গু থেকে রিলিজ পাওয়ার পর আমার অফিস কর্তৃপক্ষের সাথে দেখা করি, ওনারা বলে আরেকটু সুস্থ হলে আমরা একটা অফিসের ব্যবস্থা নিব, অফিস কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে ওনারা বলে একটা যোগদানের জন্য আবেদন দিতে ২২ জুন ২০২৫ইং করি।এই দিয়ে আমি একাধিক বার আমার অফিস কর্তৃপক্ষের সাথে দেখা করে বা কথা বলে কোন রূপ সিদ্ধান্ত পাইনি অর্ধবধী সময় পর্যন্ত।
আমি আমার পরিবার সন্তান এবং বৃদ্ধ মাকে নিয়ে মানবতার জীবনযাপন করছি। আমি যদি আমার কর্মে ফিরে যেতে পারি হলে আমার পরিবার বর্গকে নিয়ে দু মুঠো ডাল ভাত খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারি। তাই দেশে এবং জাতির কাছে আমার একটাই চাওয়া আমি যেন আমার কর্মের, ফিরে যেতে পারি, আমি তো অন্য কোন মানুষের কাছে হাত রাখতে পারব না।
এক্ষেত্রে আমার হয়তো আত্মহত্যা ছাড়া কোন পথ থাকবে না। এবং আমি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট আকুল আবেদন রাখছি উনি যেন আমার বিষয়টি মানবিক ভাবে দেখে সিদ্ধান্ত নেন,না হলে আমার মৃত্যুর জন্য উনি দায়ী থাকবে। আমি আমার কর্মে ফিরে যেতে চাই এবং আবার স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে চাই।
তার স্ত্রী রেশমা খাতুন চোখের জল আটকিয়ে বলেন আমার স্বামী আর কোনো দিন পা ফিরে পাবে না । তার চিন্তায় আমার শশুর স্টক করে মারা গেছে আজ ২৬ দিন এখন আমাদের পরিবারে উপার্জন করা মতো কেউ নাই। তাই চাকরিটা ফেরত পেলে অন্তত দুই বার ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতাম।
গাংনী উপজেলার সমাজসেবা অফিসার আরশাদ খান বলেন মিল্টন বিষয় অবগত আছি। সে আবেদন করলে আমরা তার সুবিধা দেওয়ার উদ্যাগ নেব।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জেনারেল ম্যানেজার স্বদেশ কুমার ঘোস বলেন আমার পক্ষ থেকে যতটুক সম্ভব আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। তিনি যেহেতু দৈনিক মুজুরিতে কাজ করতেন স্থায়ী চাকরি করতেন না। তাই তার জন্য আমার স্থায়ী কোন ব্যবস্থা করার সম্ভব হয়নি। যদি তিনি স্থায়ী চাকরি করতেন তাহলে তার জন্য আমরা একটা ব্যবস্থা করতে পারতাম।

মন্তব্য করুন