বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আট ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নেন নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাকসুদুর রহমান ওরফে মাসুক। জানাজার সময় তাঁর বাম হাতে হাতকড়া ছিল, পাশে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা।

মাকসুদুর রহমান বড়হাটি এলাকার বাসিন্দা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমানের ছেলে। বুধবার বিকেলে বার্ধক্যজনিত কারণে ফজলুর রহমান নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে জেলা প্রশাসন আট ঘণ্টার জন্য অনুমতি দেয়।

পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে তাঁকে মদন উপজেলার উচিতপুর ফেরিঘাটে আনা হয়। সেখান থেকে ট্রলারে করে খালিয়াজুরী কলেজরোড ফেরিঘাটে পৌঁছানো হয়। পরে পায়ে হেঁটে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জানাজায় অংশ নেন তিনি। জানাজা শেষে পূর্ব খালিয়াজুরী আবোড়া কবরস্থানে বাবার দাফন সম্পন্ন হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জানাজার সময় মাকসুদুর রহমানের দুই পাশে পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন। তাঁর হাতকড়ায় দড়ি লাগানো ছিল, যা একজন পুলিশ সদস্য ধরে রেখেছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৬ জুলাই খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাজ্জাদুল হাসানকে প্রধান আসামি করে ১৮৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মাকসুদুর রহমান ওই মামলার ১৬ নম্বর আসামি হিসেবে গত ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন এবং তখন থেকেই কারাগারে রয়েছেন।

খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বলেন, “তিনি তো বন্দী। নিরাপত্তাজনিত কারণে জানাজার সময় তাঁর এক হাতে হাতকড়া রাখা হয়েছিল।”

Facebook Comments Box