ঢাকা, ২৫ অক্টোবর: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জন্য তিনটি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। দলীয় ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং প্রার্থীর পক্ষে একযোগে কাজ করার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত বৈঠকে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির হাইকমান্ড মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বলেছেন—যে কোনো মূল্যে নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে হবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না এবং যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্তা পৌঁছে দিতে সিলেট বিভাগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে বলা হয়, একাধিক জরিপের ভিত্তিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

তবে মনোনয়নপ্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছে। কয়েকটি আসনের প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক নেতার পছন্দ না হলে তাদের ডাকা হয় না, এমনকি বিদেশে অবস্থানরতদেরও অবহিত করা হয় না।

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতোমধ্যে ৭ হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার, শোকজ ও পদাবনতি সহ নানা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিএনপির দপ্তর সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ের চেষ্টা করছি। দল যখন একক প্রার্থী ঘোষণা করবে, তখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করতে হবে।” তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে তরুণ, পেশাজীবী ও নারী প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অভ্যন্তরীণ বিরোধও বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। চাঁদপুর, নরসিংদী, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার নেতারা কেন্দ্রীয় দপ্তরে নিয়মিত অভিযোগ জমা দিচ্ছেন। রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে আমরা কোনো অপরাধীকে ছাড় দেইনি। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অন্যায় করলে তার দায় দল নেবে না।”

Facebook Comments Box