বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও মামলার তথ্য গোপনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। মামলার তদন্ত থেকে শুরু করে ফাইনাল রিপোর্ট প্রদান—প্রতিটি ধাপে অর্থ ছাড়া কোনো কাজ না করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বোয়ালিয়া গ্রামের দিলীপ চন্দ্র দাস জানান, তার বাড়ি থেকে চারটি গরু চুরির ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে এসআই আবুল কালামকে দফায় দফায় ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এর বদলে ন্যায়বিচার তো মেলেইনি, উল্টো মোটা অংকের বিনিময়ে আসামিদের অব্যাহতি দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
দিলীপ ও তার স্ত্রী মাধবীর দাবি, গরু চুরির পর তাদের খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনাতেও দ্বিতীয় মামলা হয়। সেই মামলার তদন্তেও এসআই কালামকে অর্থ দিতে হয়েছে। এখন আসামিরা মামলা থেকে রেহাই পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, বাকেরগঞ্জ থানায় এসআই আবুল কালামের ঘুষ বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। টাকা দিতে না পারলে সাধারণ মানুষের অভিযোগকে গুরুত্বহীন করে রাখা হয় অথবা উল্টো হয়রানি করা হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে এসআই আবুল কালাম আজাদ সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলার অনুরোধ জানান। অন্যদিকে, বাকেরগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার কে এম সোহেল রানা একে ‘মৌখিক অভিযোগ’ দাবি করে প্রমাণের অভাবের কথা উল্লেখ করেন।
সচেতন মহলের মতে, মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এমন অনিয়ম পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
তদন্তাধীন মামলাগুলোতে পুলিশের এমন বিতর্কিত ভূমিকা ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। অবিলম্বে অভিযোগের বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনতা।

মন্তব্য করুন