রক্তিম আভা ছড়িয়ে ২০২৫-এর সূর্য অস্তমিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম এক উত্তাল অধ্যায়ের। প্রতিরোধ, শোক আর অভূতপূর্ব গণজাগরণের সাক্ষী হওয়া সেই বছরটি পেছনে ফেলে আজ বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি), ২০২৬ সালের এক নতুন ভোরে পা রাখল দেশ। নিছক সময়ের আবর্তন নয়, বরং এক অদম্য জাতির পুনর্জন্মের অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হলো এই নতুন পথচলা।

বিদায়ী বছরটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত চিহ্ন রেখে গেছে। গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ২০২৫ সালে শোকাতুর হয়েছে গোটা জাতি। এর পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার ঘটনা বিচারহীনতার বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভকে আরও ঘনীভূত করেছিল।

২০২৫ সালটি ছিল মূলত এক মহাবিপ্লবের প্রস্তুতিকাল। শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবিতে রাজপথে অগণিত মানুষের আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই নতুন পরিবর্তনের সুযোগ। স্থবির হয়ে পড়া জীবিকা আর প্রিয়জন হারানোর হাহাকার ছাপিয়ে তরুণ সমাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই জাগরণ রাষ্ট্র সংস্কারের নতুন ভিত্তি তৈরি করেছে। যেখানে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অপশাসনের বিপরীতে ন্যায়বিচার এবং সাম্য প্রতিষ্ঠার চারা রোপিত হচ্ছে।

২০২৬ সালের এই সূচনালগ্ন কেবল একটি নতুন ক্যালেন্ডার বর্ষ নয়, বরং এটি রাষ্ট্র সংস্কারের চূড়ান্ত পরীক্ষা। আসছে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রত্যাশা নিয়ে এই বছরটি বাংলাদেশের জন্য এক নতুন প্রারম্ভের ঘোষণা দিচ্ছে। ২০২৫-এর শিক্ষা এবং বিসর্জনকে পাথেয় করে একটি শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে পৌঁছাতে বদ্ধপরিকর অকুতোভয় বাংলাদেশ।

Facebook Comments Box