দেশের আবহাওয়া বর্তমানে অস্বাভাবিক আচরণ করছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত ২১ বছরের ইতিহাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান এবারই সবচেয়ে কমে এসেছে। ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে বেশি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য সর্বনিম্ন ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে। এর আগে ২০০৪ সালে এই ব্যবধান ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। গত দুই দশকের মধ্যে তাপমাত্রার এমন চিত্র আর দেখা যায়নি।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানান, চলতি জানুয়ারি মাসজুড়েই শীতের প্রকোপ থাকবে। এ মাসে দেশে ৫টি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে ১ থেকে ২ টি তীব্র আকারের হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দেশের কোনো কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই মৌসুমের সর্বনিম্ন। একই দিনে রাজশাহী, পাবনা ও নওগাঁয় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহ শীত ও কুয়াশার এই পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃষ্টি না হলে বিশেষ করে রাজধানীসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুয়াশা কাটার সম্ভাবনা কম।
ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চল ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন