আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। ধানের শীষের প্রার্থী ও জোটের শরিকদের বিপরীতে অন্তত ৬১টি আসনে প্রভাবশালী নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হাইকমান্ড। বিদ্রোহীদের ঠেকাতে এবার বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যারা জোটের শরিক বা যুগপৎ আন্দোলনের প্রার্থীদের আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ নেতাকে ইতিমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে দলটি। এই সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে তাদের দলের সব ধরনের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলসহ স্থায়ীভাবে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতিমধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে এক বিশেষ সভায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনে দলের জেতা সম্ভাবনা বেশি থাকা সত্ত্বেও যারা বিদ্রোহ করেছেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি এই বিদ্রোহীদের নেপথ্যে কোনো নেতার ইন্ধন থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালিকায় দেখা গেছে, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের একাধিক আসনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিশেষ করে সিলেট-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, পটুয়াখালী-৩ এবং ঢাকা-১২ আসনে জোটের মনোনীত প্রার্থীদের বিপরীতে বিএনপির হেভিওয়েট নেতারা এখনো মাঠে রয়েছেন। বিদ্রোহীরা সিদ্ধান্ত না মানলে তাদের আগামী দিনে কোনো দলীয় কমিটিতে জায়গা দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিএনপি।

মন্তব্য করুন