আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রস্তুতির অগ্রগতিতে সরকার সন্তুষ্ট। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ‘নিখুঁত’ (পারফেক্ট) করাই এখন প্রশাসনের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “সারা দেশে বর্তমানে উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রচার চলছে। কেউ কারো বিরুদ্ধে কটু কথা বলছে না, যা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। প্রস্তুতি পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন লক্ষ্য হলো ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে শেষ করা।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এবারের নির্বাচন ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং নারীরা সপরিবারে উৎসবে অংশ নেবেন।

নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির বিষয়ে প্রেস সচিব জানান, সারা দেশের ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০টি কেন্দ্র সরাসরি ‘বডি-ওর্ন’ ক্যামেরার আওতায় থাকবে। বৈঠকে ড. ইউনূস পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গাসহ ৫টি প্রত্যন্ত স্থানে দায়িত্বরত সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরার কার্যকারিতা র‍্যান্ডম পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করেন। এ ছাড়া ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ ও ৩৩৩ হটলাইনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান:
বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনে মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি সদস্যসহ মোট ৯ লাখ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। পুলিশের ১ লাখ ৫৭ হাজার সদস্যের মোতায়েন শুরু হবে ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ:
প্রেস সচিব জানান, এবার প্রায় ৪০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১২০ জন বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচন কভার করবেন। এ ছাড়া ১২৪টি দেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছে।

Facebook Comments Box